জাতীয় দলের তিন ক্রিকেটার এবছর সেরা করদাতা হলেন

49

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক: এ বছর সেরা করদাতা হয়েছেন জাতীয় দলের তিন ক্রিকেটার। তারা হলেন কর অঞ্চল–৭-এর সাকিব আল হাসান। কর অঞ্চল–১-এর তামিম ইকবাল ও মাশরাফি বিন মুর্তজা। জাতীয় ট্যাক্সকার্ড নীতিমালা, ২০১০ (সংশোধিত) অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকসহ সেরা করদাতা মোট ১৪১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা উল্লেখ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে। এই প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
অন্যবারের মতো এবারও সিটি করপোরেশন ও জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ করদাতা, দীর্ঘ সময় ধরে কর দিচ্ছেন এমন করদাতা, সর্বোচ্চ করদাতা নারী ও তরুণ করদাতার তালিকা প্রকাশ করেছে এনবিআর। ব্যক্তি পর্যায়ে ট্যাক্সকার্ড দিতে ‘বিশেষ শ্রেণি’ এবং ‘আয়ের উৎস বা পেশা’ নামের দুটি শ্রেণি করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। বিশেষ শ্রেণির মধ্যে রয়েছে সিনিয়র সিটিজেন, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, নারী এবং ৪০ বছরের কম বয়সী তরুণ।
এ বছরে অভিনেতা/অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা হয়েছেন মাহফুজ আহমেদ, এম এ জলিল অনন্ত এবং এস এ আবুল হায়াত। শিল্পী শ্রেণিতে রয়েছেন রুনা লায়লা, তাহসান রহমান খান ও এস ডি রুবেল।
অন্যদিকে আয়ের উৎস বা পেশার মধ্যে ১৩ ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ী, বেতনভোগী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, স্থপতি, হিসাববিদ, নতুন করদাতা, খেলোয়াড়, অভিনেতা/অভিনেত্রী, শিল্পী (গায়ক/গায়িকা) এবং অন্যান্য। আর কোম্পানি পর্যায়ে করা হয়েছে ১৪টি শ্রেণি।
এবার অবশ্য নতুন করে কোনও পরিবারকেই কর বাহাদুর পরিবারের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না। আলাদা শ্রেণি করে তিন বছর আগে থেকে সেরা করদাতাদের ট্যাক্স কার্ড দিয়ে আসছে এনবিআর। সেরা করদাতা হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এবারও ১৪১টি ট্যাক্সকার্ড দেবে এনবিআর। এর মধ্যে ব্যক্তি রয়েছেন ৭৬ জন, বাকিগুলো প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কোম্পানি পর্যায়ে ট্যাক্সকার্ড পাচ্ছে ৫৪টি কোম্পানি। কোম্পানিগুলোকে ট্যাক্সকার্ড দেওয়া হবে ১৪টি ক্যাটাগরিতে। এগুলো হচ্ছে ব্যাংকিং, অব্যাংকিং আর্থিক, টেলিযোগাযোগ, প্রকৌশল, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, জ্বালানি, পাটশিল্প, স্পিনিং ও টেক্সটাইল, ওষুধ ও রসায়ন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, আবাসন, তৈরি পোশাক, চামড়াশিল্প ও অন্যান্য।
প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যান্য করদাতা পর্যায়ে চারটি ক্যাটাগরিতে দেওয়া হবে আরও ১১টি ট্যাক্সকার্ড। ক্যাটাগরিগুলো হচ্ছে ফার্ম, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, ব্যক্তিসংঘ ও অন্যান্য।
যোগ্য করদাতা হিসেবে সবাইকে এই মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে ট্যাক্সকার্ড ও সম্মাননা দেবে সরকার। নীতিমালা অনুযায়ী, ট্যাক্স কার্ডধারীদের সরকার বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান এবং সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ জানাবে। যেকোনও ভ্রমণে সড়ক, বিমান বা জলপথে টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা অগ্রাধিকার পাবেন।
স্ত্রী-স্বামী, নির্ভরশীল পুত্র-কন্যা নিজেদের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কেবিন–সুবিধাও পাবেন তারা। এ ছাড়া বিমানবন্দরে সিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার এবং তারকা হোটেলসহ সব আবাসিক হোটেলে বুকিং পাওয়ার ক্ষেত্রে তারা অগ্রাধিকার পাবেন। ট্যাক্সকার্ড দেওয়ার পর থেকে এর মেয়াদ থাকবে এক বছর।
সাংবাদিক শ্রেণিতে এ বছর সেরা করদাতা প্রথম আলো সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান এবং ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার–এর সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম। করদাতার দিক থেকে সেরা পাঁচ সাংবাদিকের অন্যরা হচ্ছেন চ্যানেল আইয়ের পরিচালক (বার্তা) শাইখ সিরাজ, চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী–এর সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল মালেক এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন–এর সম্পাদক নঈম নিজাম।
সিনিয়র সিটিজেন শ্রেণিতে ট্যাক্সকার্ড পাবেন স্যামুয়েল এস চৌধুরী, তপন চৌধুরী ও রাজশাহীর অনিতা চৌধুরী এবং গোলাম দস্তগীর গাজী ও খন্দকার বদরুল হাসান। তাদের মধ্যে সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) করদাতা। স্যামুয়েল এস চৌধুরী ও অনিতা চৌধুরী রাজশাহী কর অঞ্চল এবং খন্দকার বদরুল হাসান ঢাকা কর অঞ্চল ৩-এর করদাতা।
গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা শ্রেণিতে ট্যাক্সকার্ড পাবেন ঢাকার চারটি কর অঞ্চলের লে. জেনারেল আবু সালেহ মো. নাসিম (অব.), মো. নাসির উদ্দিন মৃধা, এস এম আবদুল ওয়াহাব, মো. ইদ্রিস আলী মিয়া এবং মো. আতাউর রউফ।
নারী শ্রেণিতে ঢাকার কর অঞ্চল–৩-এর রুবাইয়াত ফারজানা হোসেন, কর অঞ্চল–৬-এর মাহমুদা আলী শিকদার ও কর অঞ্চল–৯-এর পারভীন হাসান এবং রাজশাহী কর অঞ্চলের রত্না পাত্র ও রংপুর কর অঞ্চলের নিশাত ফারজানা চৌধুরী ট্যাক্সকার্ড পাবেন।
তরুণ শ্রেণিতে রয়েছেন এলটিইউর করদাতা নাফিস সিকদার, ঢাকার কর অঞ্চল–৪-এর গাজী গোলাম মতুর্জা, কর অঞ্চল–৩-এর মো. হাসান, কর অঞ্চল–১০–এর জুলফিকার হোসেন মাসুদ রানা এবং চট্টগ্রাম কর অঞ্চল–৪-এর মো. আমজাদ খান।