আজ খালেদা জিয়ার আরেক দুর্নীতি মামলার রায়

30

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজ ২৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে আসা সোয়া তিন কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে আট বছর আগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুদক। এতে বলা হয়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত এক কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়। ওই অর্থের কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি। তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে গত আড়াই বছর ধরে এ মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বারবার সময় দেয়ার পরও আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক শুনানিতে অংশ নেয়নি। তারা (আসামিপক্ষ) যুক্তিতর্ক শুনানি না করে নানা কারণ দেখিয়ে কালক্ষেপণ করছে। যদিও মামলাটিতে যুক্তিতর্ক শুনানির সুযোগ নেই। তবুও আসামিপক্ষকে তা (যুক্তিতর্ক উপস্থাপন) করার জন্য বলা হয়। উচ্চ আদালত খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচারকার্য চলার জন্য আদেশ দিয়েছেন। এরপরও আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেছেন। আসামিপক্ষের সময় আবেদন নামঞ্জুর করে রায় ঘোষণার জন্য আগামী ২৯ অক্টোবর দিন ধার্য করা হল।
আদালতের কার্যক্রম শেষে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকাবস্থায় মেট্রো মেকার্সসহ অন্যান্য লোকের কাছ থেকে নেয়া টাকা জিয়াউর রহমানের নামে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠনের মাধ্যমে তা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি যে অ্যাকাউন্ট করেছিলেন- সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদ শব্দটির ব্যবহার করেননি। এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৩২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিরা আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন।
এরপর এ মামলায় গত আড়াই বছর কোনো যুক্তিতর্ক প্রদর্শন করেননি আসামিপক্ষ। আদালত বারবার তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করার জন্য অনুরোধ করেছেন। কিন্তু তারা ‘একগুঁয়েমি’ দেখিয়ে আদালতের কথা অমান্য করেছেন। বারবার নানা অজুহাতে যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য সময় চেয়ে চলেছেন। আসামিপক্ষ আদালতের আদেশকে সম্মান প্রদর্শন করেন না। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া অভিযুক্ত অন্য তিন আসামির মধ্যে জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং মনিরুল ইসলাম খান কারাগারে থাকলেও এখনও পলাতক হারিছ চৌধুরী। বর্তমানে খালেদা জিয়া এতিম এর টাকা মেরে খাওয়া মামলায় সাজাভোগ করছেন।