ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকে সরাতে পরিকল্পনায় কতিপয় বিএনপিপন্থী আইনজীবী

32

বিলম্বিত হচ্ছে দুর্নীতি মামলায় কারান্তরীণ বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড হওয়ার পর থেকে একদিকে বিএনপির অভ্যন্তরে যেমন দেখা দিয়েছে অন্তঃকোন্দল, তেমনি দলীয় আইনজীবীদের মধ্যে বিরাজ করছে অনৈক্য। এমন প্রেক্ষাপটে সমালোচনা উঠেছে, কতিপয় আইনজীবীদের মধ্যে ‘খালেদার মুক্তি’র সদিচ্ছা থাকলেও মামলার দায়িত্বে থাকা আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের কারণে তা আলোর পথ দেখছে না। আইনজীবীরা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনার দায়িত্ব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের পরিবর্তে অন্য কাউকে দেয়া হলে এতদিন বেগম জিয়া নিশ্চিতভাবে জামিনে মুক্ত হয়ে যেতেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের বেশ কয়েকজন আইনজীবী গত ২৪ অক্টোবর গুলশানে একটি চা চক্রে বসেন। এদের মধ্যে ছিলেন, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাজী জয়নুল আবেদীন, সানাউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ও বিএনপির আইন সম্পাদক কায়সার কামালসহ অনেকেই। ওই বৈঠকে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য নতুন প্রস্তাবনা উঠেছে। খালেদার মামলার প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকে সরিয়ে মামলার দায়িত্বে আনা হবে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যেই নতুন কাউকে। এমতাবস্থায় খালেদা জিয়ার মামলার দায়িত্বে কাজী জয়নুল আবেদীনের নাম প্রস্তাবে এসেছে।
কিন্তু ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন কোনভাবেই কাজী জয়নুলকে সমর্থন করবেন না বলে সংশয় তৈরি হয়েছে। ফলে তিনি এই সিদ্ধান্তকে ভেটো দিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের শরণাপন্ন হতে পারেন বলে শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তাই মাহবুব উদ্দিন খোকনকে সরাতে তার অপরাগতা নিয়ে কৌশলে হেনস্তার সম্মুখীন করার সিদ্ধান্তও হয়েছে ওই চা চক্রে। যাতে তাচ্ছিল্যের শিকার হয়ে তিনি এ বিষয়ে বেশিদূর অগ্রসর হতে না পারেন।
চা চক্রে উপস্থিত থাকা একজন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে চা চক্রে মাহবুব উদ্দিন খোকনের অপসারণ পরিকল্পনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি তথ্য-প্রমাণসহ উপস্থাপন করা হলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যদিও আপনারা আমাদের সিদ্ধান্তকে ‘ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা’ হিসেবে দেখছেন, কিন্তু আমরা যা করছি তা ম্যাডামের ভালোর জন্যই করছি। কখনো কখনো দলের প্রধানও ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ফলে দলের একজন অধস্তন পদের নেতা হয়েও যদি বিষয়টি সমাধান করার কৌশল খুঁজে বের করেন তবে তাতে দোষের কী আছে? আমরা সেরকমই একটি পরিকল্পনা করেছি। কোনো বিশেষ স্বার্থে নয় বরং ম্যাডামকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে।
এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিলম্ব বিষয়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবী কায়সার কামাল কিছুটা ক্ষোভের সুরে বলেন, সিনিয়র আইনজীবীরা শুধু উপস্থিতির খাতিরে খালেদা জিয়ার মামলার শুনানিতে হাজির থাকেন। মামলার প্রস্তুতি, বিশ্লেষণ, দ্রুত নিষ্পত্তি নিয়ে গবেষণা সংক্রান্ত কোন কাজই তারা করেন না। দক্ষ আইনজীবীরা নিজস্ব মক্কেল নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। দলের এমন দুঃসময়ে তারা ব্যক্তিস্বার্থে মগ্ন। বিষয়টি হতাশাজনক। নিজেদের বিভক্তি ও দলাদলির কারণে ম্যাডামের কষ্ট ও ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। কতিপয় সিনিয়র আইনজীবীদের এমন স্বেচ্ছাচারিতা থেকে পরিত্রাণ পেতে নতুন পথ আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।