সরকারি চাকরি আইন বিল ২০১৮ পাস : সরকারি কর্মচারীদের সহজে গ্রেপ্তার করা যাবে না

40

সরকারি চাকরি আইন বিল ২০১৮ পাস হয়েছে। যাতে কোনো সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পূর্ব অনুমতি নেয়ার বিধান রয়েছে।

বুধবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদিক সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন এবং এটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এই বিল অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। চার্জ গঠনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পূর্ব অনুমতি গ্রহণ সাপেক্ষে কোনো সরকারি কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা যেতে পারে।

নতুন আইনের বিধান অনুসারে, কোনো সরকারি কর্মচারীকে যদি তার অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড অথবা এক বছরেরও বেশি সময় কারাদণ্ড দেয়া হয় তবে প্রাথমিকভাবে তাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হবে এবং সবশেষে সে তার চাকরি হারাবে।

তবে, এক বছরের কম মেয়াদে শাস্তির ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পর্যায়ে ব্যবস্থা নেবে।

বিদ্যমান ব্যবস্থার অধীনে, সরকারি কর্মচারীদের সেবা বিভিন্ন আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট আইন নেই। কিন্তু নতুন আইনটি সরকারি কর্মচারীদের সেবা নিয়ন্ত্রণ করবে এবং তাদের কাজের সব বিষয় এই আইনের অধীন আসবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের অবসর নেয়ার জন্য বিদ্যমান বয়সসীমা ৫৯ বছর এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৬০ বছর অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে সরকার জনস্বার্থে কারণ ছাড়াই কোনো সরকারি কর্মচারীকে তার ২৫ বছরের চাকরির মেয়াদ শেষের আগেই জোরপূর্বক অবসরে পাঠাতে পারে। আবার চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই কেউ স্বেচ্ছায় অবসরে যেতে পারে।

যদি কোনো সরকারি চাকরিজীবী বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করে তবে সে তার চাকরি হারাবে। কিন্তু দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে আইনটিতে কিছুই বলা হয়নি।

পেশাগত দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে কারো বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাসরকারী হলে সরকারের কাছ থেকে সরকারি কর্মচারীকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।

কিন্তু ব্যক্তিগত অপরাধের জন্য কোনো ফৌজদারি মামলায় তাকে এক বছরেরও বেশি সময় কারাদণ্ড দেয়া হলে তার চাকরি চলে যাবে।

নতুন আইনের অধীনে, কোনো নাগরিক সেবা বঞ্চিত হয়ে কোনো সরকারি চাকরিজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে এবং সেটি সত্য প্রমাণিত হলে ওই কর্মচারীর কাছ থেকে সরকার ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে।