ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন কারাগারের ‘আমদানি ওয়ার্ড’এ

42

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সাধারণ ওয়ার্ডের মেঝেতে অন্য বন্দিদের সঙ্গে রাখা হয়েছে।

‘আমদানি ওয়ার্ড’ নামে পরিচিত আরও ৪০ জন সাধারণ বন্দির মতো রাখা হয়েছে তাকে। আদালতের কোন নির্দেশনা না থাকায় ব্যারিস্টার মইনুলকে সেখানে রাখা হয়। সেখানে কোন খাট কিংবা চেয়ারের ব্যবস্থা নেই।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুব আলম এ বিষয়ে জানান, আদালতের কোন নির্দেশনা না থাকায় তাকে আমদানি ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক কারা কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে বলেন, আদালত থেকে যেসব বন্দি প্রথম আসে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ‘আমদানি ওয়ার্ডে’ রাখা হয়। আসামির ধরণ অনুযায়ী পরে এই ওয়ার্ড থেকে তাদের অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

তিনি আরও বলেন, মইনুল হোসেন আজই (২৩ অক্টোবর) আদালত থেকে কারাগারে গেলেন। আর এজন্য তাকে প্রথমে এই আমদানি ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। আদালতের অন্য কোন নির্দেশনা না থাকলে বা ভিন্ন কোন পরিস্থিতি না হলে তাকে সাধারণ বন্দিদের সাথে মেঝেতেই থাকতে হবে।

মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে রংপুরের মামলায় ব্যারিস্টার মইনুলকে ঢাকার আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে রাজধানীর উত্তরায় জেএসডি নেতা আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে সোমবার রাত ৯টা ২৫ মিনিটে ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। আটকের পরপরই ব্যারিস্টার মইনুলকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর রাতে একাত্তর জার্নালে টকশোতে দৈনিক আমাদের অর্থনীতির নির্বাহী সম্পাদক মাসুদা ভাট্টিকে কটূক্তির ঘটনায় গত রবিবার প্রথম মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে যুব মহিলা লীগের জামালপুর শাখার আহ্বায়ক ফারজানা ইয়াসমীন লিটা জামালপুরের আদালতে মানহানির মামলা করেন।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। একই দিন ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূরের আদালতে তার বিরুদ্ধে আরও একটি মানহানির মামলা করেন মাসুদা ভাট্টি। এ মামলাটিতেও ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

এ ছাড়া, ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ভোলা ও কুড়িগ্রামে মানহানির মামলা হয়েছে।