অনেক প্রশ্ন, লা জবাব কামাল-ফখরুলরা

0
12

জাতীয় ঐক্য গঠনে দীর্ঘদিনের হাকডাক রাজনীতির মাঠে। এই ঐক্য গঠনে ‘সফল’ পরিণতির দ্বারপ্রান্তে দাবি করলেও কার্যত সফলতার কোনো দিক তুলে ধরেনি সদ্য গঠিত জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
শনিবার সন্ধ্যায় ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে বৈঠকে বসে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্টের নেতারা। বিকেল সাড়ে ৫টায় বৈঠক শেষ করে সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন তারা।
এ সময় জোটের পক্ষে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না দাবি করেন, ‘আমরা এতদিনের চেষ্টায় একটি সফল পরিণতিতে পৌঁছেছি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে জোট গঠন করেছি। আমরা ৭ দফা দাবি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।’
জোটের এই ‘সফল’ পরিণতি আসলে কী— এটিসহ সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে নানা প্রশ্ন ছুড়ে দেয়া হয়। কিন্তু, কোনোটিরই উত্তর দেননি ড. কামাল হোসেন কিংবা মির্জা ফখরুল ইসলামরা।
তবে শিগগিরই চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহীসহ সারাদেশ চষে বেড়ানোর ঘোষণা দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। শিগগিরই কর্মসূচিও দেয়ার কথা জানান তারা।
জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে’র ঘোষণা অনুষ্ঠানটি ড. কামালের সভাপতিত্বে ও সাবেক ছাত্রনেতা সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়।
এতে অংশ নেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বারিস্টার মওদুদ আহমদ, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরী, জেএসডি’র সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, কার্যনির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, ঐক্য প্রক্রিয়ার মহাসচিব মোস্তফা আমিন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা বারিস্টার মইনুল হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘জনগণের ঐক্য হলে দুর্নীতিবাজরা পালিয়ে যাবে। তারা পালিয়ে যাক, আমাদের কিছু করার নেই। আমাদেরও যেন বাধা না দেয়।’
তিনি বলেন, ‘বৈধ সরকার গঠনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিকল্প নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব প্রগতিশীলদের আমরা আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, আমাদের এই ঐক্যে। এখানে রাজনৈতিক দল ছাড়া বিভিন্ন পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী এবং মানবাধিকার সংস্থার লোকজনও আসতে পারবেন। সবার জন্য উন্মুক্ত আমাদের এই ঐক্যফ্রন্ট। নিজেদের অধিকার আদায়ে যারা সোচ্চার, তারা এখানে আসবেন।’

কামাল হোসেন বলেন, ‘জনগণের শক্তিই বড়। যাদের কাছে বন্দুক আছে, ট্যাঙ্ক আছে, তারা আমাদের ভয় দেখাক। আমরা ভয় পাই না। জনগণের শক্তির কাছে এগুলো দেখিয়ে লাভ হবে না। জনগণের অধিকার আদায় করতে যদি কউ গুলিও করতে চায়, করুক। আমি ভয় পাই না। বঙ্গবন্ধু অন্তত আমাকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস জুগিয়েছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে এই স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। আমরা শপথ করেছি, এই অধিকার আদায় করেই বাড়ি ফিরব। অনেকে আমাদের বাইরে আছেন। তাদের আহ্বান করব, সবাই আসুন। ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে শরিক হোন।’
জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচার সরকারের অত্যাচার থেকে জনগণ মুক্তি চায়। আমরাও মুক্তি চাই। এজন্য আমরা ঐক্যফ্রন্ট করেছি। জনগণের স্বর্থের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে কোনো দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্র করি না। কামাল হোসেন ষড়যন্ত্র করেন না। আমরা ষড়যন্ত্রে বিশ্বাস করি না। আমরা নির্বাচনে যেতে চাই। আমাদের দাবি মানলে নির্বাচনে যাব।’
আব্দুর রব বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পঙ্গু হয়ে যাচ্ছেন, তিনিসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি চাই।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এই সরকারের নানা লুটপাটে জনগণ অতিষ্ঠ। এই সময়ে ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঐক্যফ্রন্ট আশার আলো জাগিয়েছে। এটা আমাদের জোটের প্রাথমিক স্তর। আরো অনেক দল আমাদের সঙ্গে এসে আমাদের এই যাত্রাকে সফল করবেন বলে আমি মনে করি।’
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি বাস্তবায়ন করার দাবি জানান তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ইতিহাসের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই স্বৈরাচার সরকার উৎখাতে একটি মাত্র পথ; সেটি জাতীয় ঐক্য। আমরা সেটাই করেছি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here