জাতীয় কৃষক সমিতির দু’দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় সম্মেলন উদ্বোধন

164

NK_January_2016_129নড়াইল কণ্ঠ : জাতীয় কৃষক সমিতির দু’দিনব্যাপী ৬ষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলন শনিবার (৩০ জানুয়ারি) উদ্বোধন হয়েছে। এ উপলক্ষে এক উদ্বোধনী সমাবেশ নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা মোল্লার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল সাড়ে তিনটায় জাতীয় সঙ্গীতের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সূচনা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি, সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি।

ফজলে হোসেন বাদশা এমপি’র উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হয়। জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কৃষক নেতা নুরুল হাসানের সভাপতিত্বে¡ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন-এমপি, প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম গোলাপ, বিশেষ অতিথি গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়নের সভাপতি কমরেড বিমল বিশ্বাস, কৃষক নেতা আনিসুর রহমান মল্লিক, বিশেষ বক্তা ছিলেন কৃষক নেতা মাহামুদুল হাসান মানিক ও শেখ হাফিজুর রহমান-এমপি। সভা পরিচালনা করেন কৃষক নেতা মনোজ সাহা।

NK_January_2016_130প্রধান অতিথি রাশেদ খান মেনন-এমপি বলেন, বিএনপি’র গণবিরোধী কর্মবালাপের জন্য জনগণের নিকট জবাবদিহি করতে হবে। বিএনপি’র কার্মকান্ড কৃষক শ্রমিক মেহনতী মানুষের পরিপন্থি। তারা আন্দোলনের নামে মানুষের জানমালের ক্ষতি সাধন করছে। একই সাথে জঙ্গিবাদ মৌলবাদের পৃষ্টপোষকতা করছে। কৃষক খেজমুরদের সংগঠিত হয়ে এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে। একই সাথে এ সম্মেলন থেকে “৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবিসহ যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গিবাদিদের সমূলে বিনাসের শপথ নিতে হবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ফজলে হোসেন বাদশা-এমপি বলেন, জাতীয় কৃষক সমিতি কৃষকের ন্যায্য দাবি-দাওয়া আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে গ্রামে-গঞ্জে শক্তভিত গড়ে তুলতে হবে। সমস্ত শোষনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। দাবি আদায়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিএনপি-জামাত জোট সরকার এদেশের ১৭জন কৃষককে গুলি কওে হত্য করেছিল। তারা কৃষকের কণ্ঠকে রোধ করতে চেয়েছিল।কিন্তু পারেনি। এদেশের কৃষক সমাজ ব্যালটের মাধ্যমে তাদেরকে প্রত্যক্ষণ করেছিল। ফসলের লাভজনকমূল্য, সার কীটনাশক ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতাসহ কৃষকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে কৃষকদেরকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তাই জাতীয় কৃষক সমিতির ৫দফা দাবি পক্ষে কৃষক খেতমজুরদের সংগঠিত করতে হবে।

সমাবেশের সভাপতি নুরুল হাসান বলেন, এ  সম্মেলন কিংবদন্তী কৃষক নেতা অমল সেনকে স্মরণীয় ও বরণীয় করতে, মজলুম জনতো মওলানা ভাসানী, তে-ভাগা আন্দোলনের সফল নেতা ও রূপকার কমরেড অমল সেন, সর্বভারতীয় কৃষক নেতা  নগেন সরকার, হাজং বিদ্রোহের মহান নায়ক মনি সিং, ভাষা সৈনিক ও কৃষক নেতা আব্দুল মতিন এবং আশির দশকে লোহাগড়ার কৃষক আন্দোলনের শহীদ হাফিজার মোল্যার স্মৃতিরক্ষার্থে তোরণে সুসজ্জিত করতে চাই লোহাগড়া লক্ষ্মীপাশার কৃষক এলাকা সমূহ। এ সম্মেলন থেকে আমরা ঘোষণা করতে চাই- কৃষক আন্দোলন ও সংগ্রামকে জোরদার করার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়কে নিশ্চিত করতে হবে এবং এ সকল পরিষদে কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামতে হবে।

সারাদেশ থেকে ৫০টি জেলার কয়েক হাজার কৃষক ঢাকঢোল পিটিয়ে উৎসব মূখর পরিবেশে সম্মেলনে সমাবেত হয়। উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে নিরিবিলি পিকনিক কর্ণারে সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্ব কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হয়। আজ ( রবিবার) দুপুরে কাউন্সিল অধিবেশন শেষ হবে। কাউন্সিল অধিবেশনে সারা দেশ থেকে  ৭শত কাউন্সিলর ও ডেলিগেট অংশগ্রহণ  করেন।