সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ালেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

0
3
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

জাতীয় উন্নয়নে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বিজিবিএম, পিবিজিএম, বিজিবিএমএস, পিএসসি, জি- এর বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিমূলক এবং মনগড়া তথ্য ছড়িয়েছেন বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

৯ অক্টোবর ‌’সময় টেলিভিশন’ এর টক’শো- ‌’সাম্প্রতিক’ অনুষ্ঠানে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় প্রসঙ্গে আলোচনার এক পর্যায়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বর্তমান সেনাপ্রধান সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেন।

ওই টকশো’তে জেনারেল আজিজ আহমেদকে কোর্ট মার্শালের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এছাড়া চট্টগ্রামে চাকুরিরত অবস্থায় জেনারেল আজিজ আহমেদ দায়িত্বে থাকাকালে সমরাস্ত্র চুরি হয়ে যায় বলে তথ্য দেন তিনি। অথচ, ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বর্ণিত অভিযোগ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বা কুমিল্লা সেনানিবাসে সমরাস্ত্র বা গোলাবারুদ চুরি বা হারানোর কোন ঘটনা ঘটেনি। সুদীর্ঘ চাকুরি জীবনে বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ কখনোই কোর্ট মার্শালের সম্মুখীন হননি। এমনকি জেনারেল আজিজ আহমেদ চাকুরি জীবনে কখনোই চট্টগ্রামের জিওসি বা কমান্ড্যান্ট হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন না। ফলে ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বক্তব্যে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই না।

এদিকে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মনগড়া বক্তব্য নিয়ে সেনাসদর দপ্তরের এক প্রতিবাদলিপি’তে বলা হয়েছে, বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে এ ধরনের দায়িত্ব-জ্ঞানহীন বক্তব্য সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। সেনাপ্রধান সম্পর্কে ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বক্তব্যকে দায়িত্ব-জ্ঞানহীন অসত্য বক্তব্য হিসেবেও অভিহিত করেছে সেনাসদর। প্রতিবাদ লিপিতে জাফরুল্লাহর বানোয়াট বক্তব্য সেনাবাহিনী প্রধানসহ সেনাবাহিনীর মতো রাষ্ট্রীয় একটি প্রতিষ্ঠানকে জনসমক্ষে হীন করার অপচেষ্টা বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই প্রতিবাদ লিপিতে বর্তমান সেনাপ্রধান তার চাকুরি জীবনে বিগ্রেড কমান্ডার ও জিওসি ছিলেন- তার বিবরণ দিয়ে বলা হয়, বর্ণিত সময়ে চট্টগ্রাম বা কুমিল্লা সেনানিবাসে সমরাস্ত্র বা গোলাবারুদ চুরি বা হারানোর কোন ঘটনা ঘটেনি। সুদীর্ঘ চাকুরি জীবনে জেনারেল আজিজ কখনোই কোর্ট মার্শালের সম্মুখীন হননি।

এদিকে ঐ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্য দুইজন আলোচক সেনাবাহিনীর মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে গর্হিত অপরাধ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা এই গর্হিত অপরাধের জন্য তাকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার কথাও বলেছেন।

সেনাবহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সম্পর্কে জানা যায়, জেনারেল আজিজ আহমেদ সকল গুণ ও দক্ষতার নিরিখে উত্তীর্ণ একজন চৌকষ সামরিক অফিসার। তার সামরিক বাহিনীর ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই মেধাবী অফিসার হিসেবে সকলের নিকট পরিচিত। এমনকি সেনাবাহিনীর জন্য একজন নিবেদিত প্রাণ হিসেবেও তার মেধা ও যোগ্যতার প্রেক্ষাপটে তিনি একাধিক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা অর্জনকারী একজন সেনা অফিসার। সুতরাং তার বিরুদ্ধে বানোয়াট তথ্য দিয়ে সেনাপ্রধানকে তথা সেনাবাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করার নিমিত্তে ডা. জাফরুল্লাহ তার বক্তব্য উপস্থান করেছেন বলেই প্রতিয়মান হয়।

উল্লেখ্য, ডা. জাফরুল্লাহ নিজ দেশের সেনাপ্রধানকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য রটিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ষড়যন্ত্র করছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা জরুরি বলেই মনে করছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here