জন্মদিনে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনলেন বাবর

0
7
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট বাংলাদেশে সরকার গঠন করার পর যে কয়েকজন ব্যক্তি ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন, তাদের মধ্যে লুৎফুজ্জামান বাবর ছিলেন অন্যতম। মনে করা হয়, তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাই ছিল বাবরের ক্ষমতাবান হয়ে উঠার মূল ভিত্তি।
বাবর প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী। কিন্তু ক্ষমতা প্রয়োগের মানদণ্ডে বাবর ছাপিয়ে গিয়েছিলেন মন্ত্রীকে।
একটা সময়ে আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আর কোনো পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী নিয়োগ দেয়নি সরকার। ফলে বাবর অনেকটা একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিপতি হয়ে যান।
১৯৫৮ সালের ১০ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন লুৎফুজ্জামান বাবর। তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এইচএসসি পর্যন্ত। এই তথ্য দেওয়া হয়েছে আমিনুর রশিদ এবং মোস্তফা ফিরোজ সম্পাদিত ‘প্রামাণ্য সংসদ’ বইয়ে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে নানাবিধ মন্তব্য করে বেশ আলোচিত হয়েছিলেন লুৎফুজ্জামান বাবর।
১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো নেত্রকোনা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বাবর। এরপর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। নির্বাচিত হয়েছিলেন ২০০১ সালেও।
সে সময় দলের ভেতরে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বাবর গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। পরে সেই ধারণা সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছিল।
ওই সময় বিএনপি সরকারের কর্মকাণ্ড খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন সাংবাদিক আরিফুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক হিসেবে আমি এমনো শুনেছি যে, কোনো একটি ঘটনায় লুৎফুজ্জামান বাবর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে ধমক দিয়েছিলেন।’
প্রায় ১১ বছর ধরে কারাগারে আছেন লুৎফুজ্জামান বাবর।
আজ ১০ অক্টোবর, জন্মদিনেই বাবর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ঘোষিত রায়ে নিজের মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনলেন।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে করা দুই মামলায় বুধবার রায় ঘোষণা করেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন। এতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
ওই দুই মামলায় সাবেক ১১ সরকারি কর্মকর্তাকেও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
কথায় বলে পাপে ছাড়ে না বাপে কে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here