ইরানের হুঁশিয়ারি: বাড়াবাড়ি করলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ

0
29
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

সৌদি আরব যদি তেল রপ্তানি নিয়ে ‌বেশি ‘বাড়াবাড়ি’ করে, তাহলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন ইরানের তেলমন্ত্রী বিজন জাঙ্গানেহ। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ‌’নির্বোধ’ মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতে সে ইরানের তেলবাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।’ তবে বিশ্ব বাজারে ইরানের তেলের চাহিদা সৌদি আরবের পূরন করার ক্ষমতা নেই বলে মন্তব্য করেন ইরানের এই প্রভাবশালী মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘বিন সালমান যতই বলুন গত মাসে তেল উৎপাদন কম হয়েছে বলে দাম বেশি ছিল। বাস্তব হলো- ইরান বাজারে তেল কম ছাড়ছে।’
ইরানের এই মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইরান বাজারে দৈনিক যে সাত লাখ ব্যারেল তেল ছাড়তো তা পুরণ করার সামর্থ্য সৌদি আরবের নেই। তাই ফাঁকা বুলি ছেড়ে লাভ নেই।’
তিনি বলেন, ‘সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র এই নোংরা খেলা যদি বন্ধ না করে তাহলে আমরা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়া হবে।’
এর আগে গত শুক্রবার মার্কিন সংবাদসংস্থা ব্লুমবার্গকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছিলেন, ‌’যুক্তরাষ্ট্র আমাকে অনুরোধ করেছে যে, ওপেক দেশগুলো যেনো ইরানের তেলের ঘাটতি পূরণ করার চেষ্টা করে। আর যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে সৌদি আরব যেনো ইরান থেকে স্বল্পমূল্যে তেল কিনে বিশ্ব বাজারে ছাড়ে।’
সালমান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর দৈনিক সাত লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি কম হচ্ছে। সে জায়গায় সৌদি আরব এবং নন-ওপেক দেশগুলো মিলিয়ে ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করছে। ইরানের তেলের অভাব পূরণ করতে ওপেকভুক্ত দেশগুলো মিলে দৈনিক দুই লাখ ব্যারেল করে বেশি রপ্তানি করার চেষ্টা করছি। এটা বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমাদের প্রচেষ্টা।’
গত মাসে তেলের দাম উর্ধ্বমুখী থাকার কারণ হিসেবে সালমান বলেন, এটা হয়েছিলো ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে নয়, বরং কানাডা, লিবিয়া, মেক্সিকো এবং ভেনেজুয়েলা তেল উৎপাদন কম করেছিল।
সৌদি প্রিন্সের এমন বক্তব্যের জবাবে ইরানের তেলমন্ত্রী বলেন, ‌‘সৌদি বা ওপেকভুক্ত এমন কোনো দেশ নেই যে বিশ্ব বাজারে ইরানের তেলের ঘাটতি কমাতে পারে।’ প্রসঙ্গত, ইরান বিশ্বে তেল আমদানিতে তৃতীয় শীর্ষ দেশ।
উল্লেখ্য, বিশ্ববাণিজ্যে ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ হলো পারস্য উপসাগরীয় হরমুজ প্রণলী। এই প্রণালী দিয়ে দিনে ১৪টি তেলবাহী সুপার ট্যাংকার ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাতায়ত করে। বিশ্বের তেলবাণিজ্য ৪০ ভাগ এই পথেই হয়। আর এই প্রণালীটি এখনো ইরানের নিয়ন্ত্রণে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here