‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকতা ও মানুষের চিন্তার ওপর আক্রমণ’

0
8
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকতা ও মানুষের চিন্তার ওপর আক্রমণ বলে মনে করেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। শনিবার (৬ অক্টোবর) গণসংহতি আন্দোলনের উদ্যোগে মণি সিংহ-ফরহাদ ট্রাস্টের মনির-আজাদ সেমিনার কক্ষে ‘গণবিরোধী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং সংবাদমাধ্যম, নাগরিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে’ শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তারা এমন মনোভাব প্রকাশ করেন।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সম্পাদক পরিষদ অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন প্রতিটি ধারা ধরে ধরে এই আইনের অগণতান্ত্রিকতা ও স্বেচ্ছাচারিতা ব্যখ্যা করে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌক্তিকতা সৃষ্টি হয় প্রশ্ন করে। আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি ৫৭ ধারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কারাগারে আটক থাকতে হচ্ছে। কিন্তু এটা আসলে সরকারের নিজের আতঙ্কিত ও ভবিষ্যত দুর্ভাবনারই প্রতীক। তারা অপরাধী বলেই নিজেদের দুর্নীতি-অপশাসন আড়াল করতে এমন আইন প্রণয়ন করে মানুষের তথ্য জানার অধিকার রুদ্ধ করতে চায়।’

এই আইন যদি সত্যিই পাস হয় তাহলে গবেষণা, স্বাধীন চিন্তা ও সৃজনশীল কাজ বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘এই আইনে জামিন পাওয়ার মৌলিক মানবাধিকারকেও ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। পুলিশকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার ফলে মানুষ কার্যত তাদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়বে।’
শিল্পী ও গবেষক অরূপ রাহী বলেন, ‘ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলেও এমন আইন ছিল। কিন্তু মানুষ তা সত্ত্বেও তাদের প্রতিবাদ, তাদের গবেষণা অব্যাহত রেখেছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনও মানুষের কাজ করা ও গবেষণা করাকে, লেখালেখিকে বন্ধ করতে পারবে না।’
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘স্বাধীন সাংবাদিকতার সব সুযোগ এই আইন রুদ্ধ করবে। গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোনও দুর্নীতি, অনিয়ম ও গণবিরোধী কিছু ঘটলে জনগণের সামনে তা উন্মোচন করা। আমরা দেখতে পাচ্ছি— একদিকে সরকার আইন করছে ফৌজদারি আইনেও সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের অনুমতি ছাড়া গ্রেফতার করা যাবে না, অন্যদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তল্লাশির পরোয়ানা ছাড়াই যে কাউকে গ্রেফতার ও তল্লাশি করার অধিকার পুলিশের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে যেভাবে একক ব্যক্তির হাতে সর্বময় কর্তৃত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে, সেই কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে যেন কেউ কথা বলতে না পারে, সে জন্য পরিপূরক হিসেবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এই আইন কেবল নির্যাতনমূলকই নয়, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও মানুষের চিন্তার ওপর আক্রমণ। এই অগণতান্ত্রিক আইন ঠেকাতে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ দরকার।’
বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধানে বর্ণিত মানুষের মৌলিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা রক্ষার অন্যতম দায় উচ্চ আদালতের। চাইলে সুয়োমোটোর মাধ্যমে এই বিষয়ে উচ্চ আদালত জনগণের সামনে তার অবস্থান পরিষ্কার করতে পারেন।’
তিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একদিন সম্প্রচার বন্ধ করে এই বিষয়ে অনড় অবস্থান জনগণের সামনে পরিষ্কার করুন। সর্বস্তরের জনগণ আপনাদের প্রতি সংহতি জানাবেন।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির সভাপতিত্বে এ আয়োজনের শুরুতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন দলের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল। এতে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, আরিফুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অপরাজিতা চন্দ, প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here