সরকারি চাকরিতে কোটা রাখার দাবিতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের চট্টগ্রামে অবরোধ

32

সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবিতে চট্টগ্রামে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ড’ ও ‘মুক্তিযোদ্ধার পরিবার’ নামের দুইটি সংগঠন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে নগরীর জামালখানে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়েছেন তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোটা বহাল রাখার দাবিতে চট্টগ্রাম নগরীতে সড়ক অবরোধ করে এখনো বিক্ষোভ করছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা।

শত শত তরুণ-যুবক প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে তুলেছে পুরো এলাকা। অনেকে জাতীয় পতাকা নিয়ে এসেছেন। কারও কারও কপালে বাঁধা লাল-সবুজের পতাকা। তবে দুইভাগে বিভক্ত সড়কের একপাশে অবস্থান নেওয়ায় নগরীর জামালখান দিয়ে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। আশপাশের এলাকায় যানজটও সৃষ্টি হয়েছে।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটার পক্ষে তরুণ-যুবকরা প্রেসক্লাবের সামনে রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে।

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকা, ফরিদ মাহমুদ, মাহবুবুল হক সুমন, দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা হারুন লুবনা, যুবলীগনেতা নওশাদ মাহমুদ রানা, যুবনেতা ওয়াসিম উদ্দিন, শিবু প্রসাদ, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, এস এম বোরহান, সুমন বড়ুয়া, গোলাম সামদানী জনি, নাদিম উদ্দিন, কাজী রনিসহ যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগের অনেক নেতা কর্মীকে দেখা গেছে গেছে।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগে সংরক্ষিত ৫৬ শতাংশ কোটা সংস্কার করে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে কয়েক মাস আগে জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নামে একটি সংগঠন। এই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনা করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দেয় সরকার। ওই কমিটি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার সুপারিশ করে, যা বুধবার (৪ অক্টোবর) মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায়।

তবে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোটা বাতিল হলেও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে কোটা পদ্ধতি আগের মতোই আছে।