আট ফুট লাফিয়ে মাশরাফির ক্যাচ!

30

শোয়েব মালিক এবারের এশিয়া কাপে আগেও ম্যাচ বের করে ছেড়েছেন। আফগানদের কাঁদিয়েছেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে করেছেন লড়াই। সেই মালিক বাংলাদেশের বিপক্ষে আবার উইকেটে দাঁড়িয়ে গেলেন। বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ের ম্যাচটা তখন বাতাসে ভাসছে। একবার বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকছে। একবার চলে যাচ্ছে পাকিস্তানের পক্ষে। সেই ম্যাচটাকে নিজের পকেটে পুরলেন মাশরাফি। বাতাসে ভাসা শোয়েব মালিকের এক ক্যাচ ধরে অবাক করে দিলেন সবাইকে। দর্শক বানিয়ে দিলেন মালিককেও।


পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দলের জয়ের দিনে অধিনায়ক মাশরাফির কোন অবদান থাকবে না তা কি হয়। তিনি কোন উইকেট নেননি। কিন্তু ‘সুপারম্যানের’ মতো এক ক্যাচ ধরেছেন।

পাকিস্তান ইনিংসের ২১তম ওভারের প্রথম বল। ব্যাটে আছেন শোয়েব মালিক এবং ইমাম উল। দু’জনে করে ফেলেছেন ৬৭ রানের জুটি। এমন সময় মিডউইকেটের ওপর দিয়ে তুলে মারতে গেলেন মালিক। তিনি কি আর জানেন ওখানে মাশরাফি আছেন! বাংলাদেশ অধিনায়কের থেকে একটু দূর দিয়েই শটটা খেললেন মালিক। কিন্তু চিলের মতো ছো দিয়ে এক হাতে মালিকের শটটা মুঠোবন্দী করলেন মাশরাফি।

এরপর এক হাতে বল উচিয়ে ধরলেন তিনি। ফ্লোরোন্স নাইটেঙ্গেলের আলোকবর্তিকা উচিয়ে ধরার মতো; দল এবং সমর্থকদের আশার আলো দিলেন ম্যাশ। তিনি ক্যাচটা তালুবন্দী করতে ডাইভ দিয়েছেন ২.৩৫ মিটার। যা প্রায় আট ফুট! লাফিয়ে ক্যাচ নিতে গিয়ে বাঁ-হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে ব্যথাও পেয়েছেন।

ভক্তদের মনে ভয় ধরিয়ে মাঠ ছেড়েছেন ওই ব্যথা নিয়ে। তার ক্যাচ ধরায় উফ…ইস…করেছেন অনেকে। কী দরকার অমন করে ক্যাচ ধরার বলে বসেছেন কেউ কেউ। কারণটা অজানা হওয়ার কথা নয়। তার যে ইনজুরি যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে অঘটন। শেষ হয়ে যেতে পারে ক্যারিয়ার! কিন্তু মাশরাফি কি ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করেন? মাঠে তার চিন্তায় তো শুধু দল। নিজেকে উজাড় করে দেন লাল-সবুজের জার্সি পরে। বাংলাদেশসহ বিশ্ব ক্রিকেটের ভক্তদের আরেকবার তা দেখিয়ে দিলেন মাশরাফি।

তবে মিনিট ১৫ বাদেই আবার মাঠে ফেরেন মাশরাফি। এর থেকে কত বড় বড় চোট তাকে ছিটকে দিতে পারেনি। আর সামান্য বাঁ-হাতের আঙুলে ব্যথা পাওয়া! মাশরাফি কিন্তু ওই ক্যাচেই ক্ষান্ত হননি। পরে নিয়েছেন আরও এক ক্যাচ। এমনকি ম্যাচটাও জিতে মাঠ ছেড়েছেন তিনি এবং তার দল।