ঘোষিত সমাবেশের তারিখ পরিবর্তন করায় সমালোচনার মুখে বিএনপি

36

২৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার জনসভার ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত তারিখ পরিবর্তন করায় দলীয় সমন্বয়হীনতা, দলীয় সিদ্ধান্তহীনতা ও নেতৃত্বের অযোগ্যতার জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছে বিএনপি। যে দল একটা সাধারণ জনসভা নিয়ে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, যে দল আন্দোলন-সংগ্রাম করে কারাবন্দি নেত্রীর মুক্তির ব্যবস্থা করতে পারে না, সেই দল কিভাবে চ্যালেঞ্জের রাজনীতি উতরে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসার স্বপ্ন দেখে সেটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও রাজনীতিবিদ। এমন হাস্যকর কর্মসূচি ও সমন্বয়হীনতার রাজনীতির জন্য আগামীতে দলটি জনগণের মন থেকে মুছেও যেতে পারেও বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
জানা যায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতা-কর্মী তথা দেশবাসীর সামনে অভিযোগ দিতে ২৭ সেপ্টেম্বর জনসভার আহ্বান করেছিল বিএনপি। সূত্র বলছে, মূলত নিজেদের দৈন্যদশা তুলে ধরতে এবং দলীয় ভঙ্গুর অবস্থা ঢাকতে সরকারকে দায়ী করে নালিশের জনসভা করতে চেয়েছিল বিএনপি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারকে নিজেদের দলীয় অবস্থা তুলে ধরে আগামীতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়ে সংকেত দিতেই এই আয়োজন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলীয় সমন্বয়হীনতা, নেতৃত্বে দুর্বলতা ও সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে জনসভার তারিখ পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে বিএনপি।
বিএনপির এমন পলায়নপর রাজনীতি ও সিদ্ধান্তহীনতার বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের একজন অধ্যাপক বলেন, বিএনপির করুণদশা দেখে সত্যি দুঃখ হয়। বিএনপির মতো একটা বৃহৎ রাজনৈতিক দল শুধু চুরি-বাটপারি, সীমাহীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার কারণে আজ ডাস্টবিনে জায়গা হয়েছে। বিএনপির মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খেয়েছে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা। আজকের দিনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির বিভক্ত হওয়া ছোট ছোট উপদলগুলোর মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত নেত্রীর মুক্তির জন্য আন্দোলন ও আইনী লড়াই চালাতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। সামান্য একটি জনসভা করতেও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না দলটির নেতারা। অথচ ক্ষমতায় থাকতে দিনকে রাত করেছেন তারা। কেউ কারো আদেশ মানেন না। আমার ধারণা এই দল অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
এদিকে বিএনপির এমন হাস্যকর রাজনীতির বিষয়ে আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা বলেন, যে দল একটি জনসভার সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, তারা আবার দেশ শাসনের স্বপ্ন দেখে। বিএনপি এখন জোকারদের দল। দেশবাসীর মনোরঞ্জন করাই তাদের কাজ। আন্দোলন নেই, গঠনমূলক আলোচনাও নেই। মা বলে এক কথা, ছেলে বলে আরেক কথা। একজন আন্দোলন চান, আরেকজন সমঝোতা করে পিঠ বাঁচাতে চান। আজব সব দেউলিয়া ও অবাঞ্ছিত নেতাদের বৃদ্ধাশ্রম হলো বিএনপি। এই দল কখনই জনগণের পক্ষে কথা বলেনি। এরা দেশকে বিক্রিসহ জনগণকে জিম্মি করে হলেও স্বার্থ উদ্ধারে পিছপা হবে না। সুতরাং বিএনপির ব্যাপারে জনগণকে আরো সচেতন হতে হবে।

তথ্য সূত্র: banglanewspost.com