মানুষ শান্তিতে থাকলে বিএনপি অশান্তিতে থাকে -প্রধানমন্ত্রী

0
21
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

সরকারের পতন ঘটাতে দুর্নীতিবাজদের ঐক্য হয়েছে এখন জনগণ এই দুর্নীতিবাজদের ভোট দিলে দিবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ সময় সোমবার নিউইয়র্কে প্রবাসীদের সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর ও হত্যা চেষ্টাকারীরা একজোট হয়ে তথাকথিত জাতীয় ঐক্য গড়ে, সরকারের পতন ঘটাতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, তারা ক্ষমতায় এলে দেশের সম্পদ লুটে খাবে। রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক সংবর্ধনায় একথা বলেন তিনি। শেখ হাসিনা জানান, জনগণ তাদের ভোট দিলে দেবে, কিন্তু আওয়ামী লীগ সততায় বিশ্বাস করে।

সেখানে দেওয়া ভাষণে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, মানুষ শান্তিতে থাকলে বিএনপি অশান্তিতে থাকে। যুক্তফ্রন্টের নামে দুর্নীতিবাজরা এক হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই আলোকচিত্রী শহিদুল আলম শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উসকানি দিয়েছিলেন।

গত শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার লক্ষ্যে নাগরিক সমাবেশ হয়। সেখানে বিএনপি, বিকল্পধারা, জেএসডি, নাগরিক ঐক্যসহ কয়েকটি দল অংশ নেয়। সরকারবিরোধী এই ঐক্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা রয়েছে। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী এ কথা বললেন।

এছাড়াও সংবর্ধনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তার জন্য। এই আইনের জন্য সাংবাদিকদের উদ্বিগ্ন হবার কিছু নেই।সামাজিক সমস্যা দূর করতেই এই আইন করা হয়েছে।

প্রবাসীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানের নতুন সংযোজন ড্রিম লাইনার দিয়ে আপনাদের সুবিধার্থে অচিরেই ঢাকা-নিউ ইয়র্ক ফ্লাইট চালু করা হবে।

এর আগে জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদিতে রোববার দুপুরে লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার বিকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেলসন ম্যান্ডেলা পিস সামিটে ভাষণ দিবেন তিনি। এর আগে সকালে বিশ্ব মাদক সমস্যা বিষয়ে বৈশ্বিক আহ্বান সংক্রান্ত একটি সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এতে উপস্থিত থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘ মহাসচিব। একই দিনে শরণার্থী বিষয়ক বৈশ্বিক কম্প্যাক্ট ও শিক্ষা বিষয়ক দুটি হাই-লেভেল ইভেন্টে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া দুপুরে ইউএস চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত একটি রাউন্ড টেবিল আলোচনায় তিনি অংশগ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী কাল ২৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সাইবার সিকিউরিটি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য রাখবেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে অ্যাকশন ফর পিস কিপিং বিষয়ক সভায় অংশগ্রহণ করবেন। এতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ক্রমাগত উন্নতির বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।

এ ছাড়া তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের চতুর্থ শিল্প বিপ্লব সম্পর্কিত একটি প্যানেলে যোগ দেবেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে ২৬শে সেপ্টেম্বর জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের জেনারেল ডিবেট অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। প্রতিবারের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দেবেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে গত বছরের উত্থাপিত পাঁচ দফা সুপারিশের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য রাখবেন। এর আগে লিথুনিয়ার প্রেসিডেন্ট আয়োজিত ‘নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন’ বিষয়ক সাইড ইভেন্টে ভাষণ দেবেন।

২৮ সেপ্টেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রী তার এই সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন। এর পাশাপাশি তিনি কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, জাতিসংঘ মহাসচিব, কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিয়ে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনায় রোহিঙ্গা বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত একটি রিসেপশন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here