এস কে সিনহা পিস কমিটির সদস্য ছিলেন

26

সম্প্রতি আত্মজীবনীমূলক একটি বিতর্কিত বই প্রকাশ করে আবারো সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। প্রধান বিচারপতি হিসেবে সিনহা যা করছেন তা বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। এস কে সিনহা আত্মস্বীকৃত শান্তি কমিটির সদস্য।
অনুসন্ধানে তার সম্পর্কে বেরিয়ে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সিনহা মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী বাহিনীর হয়ে কাজ করতেন। তিনি নিজের মুখেই এই তথ্য স্বীকার করেছেন। ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর যুদ্ধাপরাধী কামরুজ্জামানের মামলা চলাকালে তিনি নিজ মুখে জানান যে, তিনি ১৯৭১ সালে শান্তি বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তার এ বক্তব্য তখন ২০১৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা ট্রিবিউনে ”জাস্টিস সিনহা ডিসক্লোজেস হিস রোল ইন ১৯৭১” এই শিরোনামে একটি সংবাদও প্রকাশ করেছিল।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। পাকিস্তানী নাগরিক হিসেবে তিনি পাকিস্তানে মারা গেছেন। তিনি সজ্ঞানে পাকিস্তানের পক্ষপাতিত্ব করেছিলেন। সিনহাও যে সজ্ঞানে এ কাজ করেছিলেন কারণ তার বাড়ি ভারত সীমান্তবর্তী। সুতরাং তিনি মুক্তিযুদ্ধে যেতে চাইলে সহজে ভারতে যেতে পারতেন। তা না গিয়ে তিনি রাজাকার শিরোমণি গোলাম আযমের সৃষ্ট শান্তি কমিটিতে যোগ দেন। তাছাড়া সে সময়ে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ, মণিপুর লিবারেশন আর্মি, ইউনাইটেড লিবারেশন আর্মি অব অসম (আলফা), ত্রিপুরা টাইগার সদস্যদের ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তাদের আশ্রয় দিয়েছিল। পাকিস্তানী আর্মির গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই তাদের অর্থ ও ট্রেনিং দিত।
১৯৭১ এর একজন শান্তি কমিটির সদস্য রাষ্ট্রের অন্যতম উঁচু স্থানে বসে ক্ষমতাসীন আমাদের মহান সংবিধানের ওপর আঘাত করার চেষ্টা করেছিল। আমাদের সংবিধানের ওপর আঘাত করার অর্থই হলো স্বাধীনতার চেতনার ওপর আঘাত করা। সংবিধানের ওপর আঘাত করা মানে সর্বোপরি বাঙালী জাতি ও বাংলাদেশের অস্তিত্বের ওপর আঘাত করা।

তথ্য সূত্র : odwitiobangla.com