দুর্নীতির অপর নাম এস কে সিনহা!

43

দার্শনিক, ধর্মতাত্ত্বিক, নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোন আদর্শের নৈতিক বা আধ্যাত্মিক অসাধুতা বা বিচ্যুতিকে দুর্নীতি বলে। তবে দুর্নীতির অপর নাম সুরেন্দ্র কুমার সিনহাও বলা যায়। কারণ একজন বিচারপতি হয়ে তিনি যে পরিমাণ দুর্নীতি করেছেন, তা যেকোন দুর্নীতিবাজের পক্ষে করা দুঃসাধ্য।

প্রথমে বলা যাক বর্তমান জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সেক্রেটারি জনাব পরেশ চন্দ্র শর্মার সঙ্গে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিশেষ সখ্যতার কথা। উভয়ের বিরুদ্ধে বিচার সংক্রান্ত রায় এবং সহকারি জজ নিয়োগে দুর্নীতির আশ্রয় সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, জনাব পরেশ চন্দ্র শর্মাকে অভিযোগের দায় হতে অব্যাহতি প্রদান করেন সিনহা। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২, ঢাকা এর বিচারক জনাব পরেশ চন্দ্র শর্মা ৮,০০,০০০/- (আট লক্ষ) টাকার বিনিময়ে দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করে মামলা নং-২১৩/২০১৩ এর অভিযোপত্রের ২ নং আসামি মো. শাবাব এর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও জামিন দিয়েছেন জনাব পরেশ। আর এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমান থাকার পর ও পরেশ চন্দ্রকে অভিযোগ হতে অব্যাহতি দেন জনাব সিনহা। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত করে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উদঘাটিত মূল বিষয়বস্তু হলোঃ
‘দীর্ঘদিন বরাবর পলাতক আসামি মো. শাবাব এর বিরুদ্ধে মৃত ভিকটিম শারমিনকে ধর্ষণ করার বিষয়ে মৃত্যুকালীন ঘোষণাসহ অভিযোগপত্র দাখিল থাকা সত্ত্বেও উক্ত আসামিকে আদালতে আত্মসমর্পণের দিনই জামিন মঞ্জুর এবং তাহার বিরুদ্ধে ধর্ষণের উপাদান থাকা সত্ত্বেও অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দানের বিষয়টি নিঃসন্দেহে সার্বিক বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট বিচারকের সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা এবং দুর্নীতির ইঙ্গিত বহন করে।’

উক্ত রিপোর্টের আলোকে, জনাব পরেশ চন্দ্র শর্মার শাস্তির ব্যবস্থা না করে দুর্নীতির মাধ্যমে সুপ্রীম কোর্ট তাকে আনিত অভিযোগের দায় হতে অব্যাহতি প্রদান করে। উক্ত অব্যাহতি প্রদান মাননীয় প্রধান বিচারপতির একক নির্দেশক্রমে হয়েছিল বলে জানা যায়।

এছাড়া, সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সহকারি জজ নিয়োগেও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মাননীয় প্রধান বিচারপতি জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সদস্য থাকাকালে জনাব পরেশ চন্দ্র শর্মাকে কমিশনের সচিব হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। সে সময় একজন সহকারি জজ নিয়োগে জনাব সিনহা ও জনাব পরেশ চন্দ্র শর্মার বিরুদ্ধে জনপ্রতি ৭,০০,০০০/- (সাত লক্ষ টাকা) টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উত্থাপিত হয়। পরিবর্তিত জনাব সিনহা প্রধান বিচারপতি হওয়ায় উক্ত সদস্য পদে বিচারপতি জনাব হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে মনোনয়ন দেয়া হয় । এই বিচারপতি আসার পর থেকে পরেশ চন্দ্র শর্মা দুর্নীতির মাধ্যমে আর কোন সহকারি জজ নিয়োগ প্রদান করতে সক্ষম হন নি।

এ প্রসঙ্গে কথা হয়, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এক সিনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ভাবতেও অবাক লাগে, যার কাছে দেশের মানুষ ন্যায় বিচার আশা করবে তিনিই দুর্নীতি করে বেড়াচ্ছেন। সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কারণে এখন নিজেকে আইন পেশার কর্মী বলতেও লজ্জা হচ্ছে।

তথ্য সূত্র : banglanewspost.com