বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের অংশগ্রহণে হতে যাচ্ছে ‘জাতীয় ঐক্যের’ সমাবেশ

18

যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার শনিবারের সমাবেশ থেকে সরকার বিরোধী কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনার পেছনের রহস্য গোপন সূত্রে উন্মোচিত হয়ে গেছে। রাতের আঁধারে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাড়িতে মির্জা ফখরুলের গোপন বৈঠকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের এই নীল নকশার বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে বলে মনে করেছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র বলছে, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবির অন্তরালে রয়েছে সরকারকে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে হঠানোর গভীর ষড়যন্ত্র। মূলত বিএনপি-জামায়াতের লাখো কর্মীর অংশগ্রহণে হতে যাচ্ছে ‘জাতীয় ঐক্যের’ এই সমাবেশ।

জানা যায়, এ কাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘যুক্তফ্রন্ট’ ও ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার’ সমাবেশের আগের দিন গোপনে বি. চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে সোয়া এক ঘণ্টা বৈঠক করেন মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির তিন সিনিয়র নেতা। বৈঠক সমাবেশের অন্তরালে কীভাবে জামায়াতের সশস্ত্র জঙ্গিদের অবস্থান নিশ্চিত করা যায় তা নিয়েও কথা হয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়াও বিএনপির মাঠ পর্যায়ের অপরিচিত মুখদের সমাবেশে উপস্থিত করার মাধ্যমে শক্তি প্রদর্শনের ভিন্ন কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

‘বৃহত্তর ঐক্য’ গঠনের চেষ্টায় শনিবার বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের সমাবেশে উপস্থিত করে শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে সরকারকে চাপে ফেলার একটি অপতৎপরতা চালানো হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

গত আগস্টের শেষে ড. কামাল হোসেনের গণফোরামকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা আসে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে। এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বেশ কিছুদিন ধরে সরকারবিরোধী একটি ‘বৃহত্তর ঐক্য’ গড়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন বলে জানা যায়। সকল সূত্রকে একসাথে করলে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বারিধারার বাসায় যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য মওদুদ আহমদ ও খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নান ও যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি. চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে। শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ওই বাসা থেকে বিএনপি নেতাদের গাড়ি বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। বিএনপি নেতারা আলাদা গাড়িতে এলেও বৈঠক শেষে কালো একটি মাইক্রোবাসে করে তাদের একসঙ্গে লুকিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, ‘জাতীয় ঐক্যের’ পাঁচ দফাকে বিএনপি-জামায়াতের অবস্থানের ‘ফটোকপি’ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের অংশগ্রহণে হতে যাচ্ছে ‘জাতীয় ঐক্যের’ সমাবেশ, যা তারেক রহমানের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের একটি অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, কামাল হোসেনের সঙ্গে বি. চৌধুরীর ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে ‘অগণতান্ত্রিক পথে ক্ষমতায় যাওয়ার ইচ্ছা’ নিয়ে টিপ্পনী কেটেছেন দেশের সাধারণ মানুষ। নতুন এই জোটকে সাধারণ মানুষ বর্ণনা করছেন ‘আওয়ামী লীগ বিরোধীদের’ এক জায়গায় আসার চেষ্টা হিসেবে। সরকার হঠানোর জন্য তারেক রহমানের চক্রান্ত ‘জাতীয় ঐক্যের’নামে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র :banglanewspost.com