বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপির আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা কি দেশদ্রোহীতা নয়?

34

সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে বৈঠকে ব্যর্থ হয়ে এবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছে বিএনপি। জানা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই এ সফর করবেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। নির্দলীয় সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতেই মূলত এমন তৎপরতা চালাচ্ছে দলটি।
সূত্র বলছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সঙ্গে ফলোআপ বৈঠক করতে আবারও যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার কথা রয়েছে দলের নেতাদের। পাশাপাশি খুব শিগগিরই বিএনপির একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের ভারত সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়কে পররাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়ার মতো খেলায় মেতে ওঠা বিএনপিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহল। অনেকেই বিএনপির প্রচেষ্টাকে পাকিস্তানের হাতে দেশ তুলে দেয়ার পাঁয়তারা সঙ্গে তুলনা করছেন।

জানতে চাইলে একজন ইতিহাসবিদ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান ও তার সহযোগিরা যেমন যুদ্ধাপরাধীদের বাংলাদেশে এনে স্বাধীনতা বিরোধী রাষ্ট্র গঠনে তৎপর হয়ে উঠেছিলো তেমনি বর্তমানে বিভিন্ন দেশ সফর করে দেশের ভারসাম্যতা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে বলেই প্রতিয়মান হচ্ছে।

বিএনপির এমন তৎপরতাকে একইরকম ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক। তিনি বলেন, প্রতিটি দেশেরই পররাষ্ট্রনীতি আছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্কও থাকে। কিন্তু দেশের অভ্যান্তরীণ বিষয়, যেমন- নির্বাচন কিংবা সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টার জন্য যদি কোনো দেশের কোনো রাজনৈতিক দল পররাষ্ট্রের সহযোগিতা চায় তবে তা আর সাধারণ বিষয় থাকে না। ফলে বিএনপি যা করছে তা এক অর্থে দেশবিরোধী চক্রান্ত বলা অমূলক হবে না।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। এছাড়া স্বপ্রণোদিত হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম জাতিসংঘ সফর করেছেন। সেখানে জাতিসংঘের রাজনৈতিক শাখার সহকারি মহাসচিব মিরোস্লাভ জেনকার সঙ্গে দেখা করলে সে সাক্ষাতে প্রতিহত হয়েছেন তিনি। জেনকার ফখরুলকে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নাক গলাবে না জাতিসংঘ।

এর আগে গত জুনে ভারতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকে যান বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতারা। যদিও সে সফরেও বিফল হয়ে ফিরতে হয় তাদের। জাতিসংঘের মতোই স্পষ্ট করে বিএনপির প্রতিনিধিদের জানিয়ে দেয়া হয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারা কোনো কথা বলবে না। বলাটা যৌক্তিকও হবে না। বিষয়টি অন্যান্য দেশ বুঝলেও বিএনপি বুঝতে পারছে না।