শেখ হাসিনার সন্তানের মর্যাদা পেলো তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিরা

36

নড়াইল কণ্ঠ : বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। যিনি প্রধানমন্ত্রী পরিচয় ছাপিয়ে পরিচিত হয়ে উঠেছেন একজন মমতাময়ী মা হিসেবে। ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে সমগ্র বিশ্বে একজন মমতাময়ী নেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। দেশ পরিচালনা ও রাজনীতি করতে গিয়ে অসংখ্যবার মমতার নজির স্থাপন করেছেন জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা। সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সমাজের অবহেলিত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিজের সন্তানের মর্যাদা দিয়ে নিজের বুকে টেনে নিয়েছেন মমতাময়ী মা হিসেবে পরিচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকার ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় কৃতজ্ঞতা জানাতে তৃতীয় লিঙ্গের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। তৃতীয় লিঙ্গের আবিদা ইসলাম মৈয়ূরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সংসদ ভবন কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ সাক্ষাৎকে অত্যন্ত আবেগঘন হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলেন, “মৈয়ূরী অত্যন্ত আবেগপূর্ণ কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাকে তাঁর (শেখ হাসিনার) নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করার অনুরোধ জানালে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই তুমি আমার সন্তান’।”

এই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ‘সমাজ কল্যাণ সংস্থা’র আওতায় জামালপুর জেলায় তৃতীয় লিঙ্গের লোকদের কল্যাণে কাজ করে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানায়। মৈয়ূরী প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘অতীতে কোনো সরকার তৃতীয় লিঙ্গের লোকদের কল্যাণে কাজ করেনি। প্রধানমন্ত্রী তাদের সমাজের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “তাঁর সরকার তৃতীয় লিঙ্গের লোকদের জন্য বিভিন্ন সেবামূলক কাজ হাতে নিয়েছে এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে থাকার অধিকার নিশ্চিত করেছে”।

আমাদের সমাজে বরাবরের মতোই এতদিন অবহেলিত হয়ে আসছিল এই তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধি বা হিজড়ারা। রাস্তাঘাটে তাদের দেখলে সবাই এক ধরণের অবজ্ঞার দৃষ্টি নিয়ে থাকায়। তারা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে চাইলে সেই সুযোগও দেয়া হতো না।

সমাজের আর দশটা সাধারণ যেখানে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বা হিজড়াদের দেখলে ঘৃণা কিংবা অবজ্ঞা নিয়ে তাকায় সেখানে আমাদের দেশের মাননীয় মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভালোবেসে নিজের সন্তানের মর্যাদা দিয়ে বুকে টেনে নিয়েছেন। এজন্যই তিনি দেশরত্ন, মমতাময়ী এবং জননেত্রী।