দল ও দেশের প্রতি খুবই অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলাম

0
21
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক: এক হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা গ্লাভস, আরেক হাতে ব্যাট। বল হাতে দৌড় শুরু করেছেন সুরঙ্গ লাকমল। লঙ্কান পেসারের ছোড়া দ্রুতগতির বলটি কোনোভাবে চিড় ধরা কব্জিতে লাগলেই সব শেষ। পুরো ক্যারিয়ার পড়ে যেতে পারে শঙ্কার মুখে। কিন্তু সকল ভাবনাই যেন ঝেড়ে ফেললেন তামিম ইকবাল। এক হাতেই অবলীলায় সামলে নিলেন বলটি। রচিত হয় এক বীরত্বগাঁথা। অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে মাঠে নামা তামিম যেন এক মুহূর্তেই বিশ্বের কোটি ক্রিকেটভক্তের মন জয় করে নিলেন।

অপরপ্রান্তে দাঁড়ানো মুশফিকুর রহিম খুব কাছ থেকেই দেখেছেন তামিমের দুঃসাহসিকতা। নিয়েছেন অনুপ্রেরণা। তুলেছেন যেন মরুর বুকে ঝড়। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের স্কোরকার্ডে জমা পড়ে ২৬১ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ।

তামিমের এমন সাহসিকতার ম্যাচে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন বোলাররাও। তাই তো ১২৪ রান করতেই গুটিয়ে যায় লঙ্কানরা। বাংলাদেশ পায় ১৩৭ রানের বড় জয়। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জোটে মুশফিকের কপালে। তবে সেদিন ম্যাচের সব আলো কেড়ে নিয়েছেন কিন্তু তামিমই।

ম্যাচ শেষে ক্রিকেট বিশ্বের প্রশংসাবাণীতে ভেসে যান তামিম। কিন্তু লাকমলের বল ঠেকানোর সময় কেমন অনুভব করছিলেন তামিম? নিশ্চয়ই সেই কথা জানতে ইচ্ছে করে ক্রিকেটপ্রেমীদের। রোমাঞ্চকর ও দুঃসাহসী সেই মুহূর্তে নিজের অনুভূতির বর্ণনা দিয়েছেন বাঁহাতি এই ওপেনার নিজেই।

তামিমের জানান, দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের চারদিকের গ্যালারি থেকে ধেয়ে আসা লাল-সবুজ সমর্থকদের গর্জন তাকে করে তুলেছিল দুঃসাহসী। হয়তো একটু এদিক-সেদিকে তার ক্যারিয়ারই শেষ হয়ে যেত। কিন্তু তিনি ছিলেন দল ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।

ম্যাচের পর প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন তামিম। ক্রিকেটবিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিক ইনফোকে জানান তার অনুভূতি আর অভিজ্ঞতার কথা। সেখানেই তামিম বলেন, ‘ওই ১০ সেকেন্ড খুবই সাহস অনুভব করেছিলাম। স্টেডিয়ামের চারদিকের গ্যালারি থেকে ধেয়ে আসা লাল-সবুজ সমর্থকদের গর্জন আমাকে দুঃসাহসী করে তুলেছিল। যেকোনো কিছুই ঘটতে পারত। আউট হতে পারতাম, একটু এদিক ওদিক হলে পুরো ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারত। তবে ওই মুহূর্তে দল ও দেশের প্রতি খুবই, খুবই অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলাম।’


ম্যাচ শেষে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছিল, বিশেষ পরিস্থিতিতে তামিমকে ব্যাট করতে পাঠানোর সিদ্ধান্তটা আসলে নিয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা নিজেই। তবে মাশরাফি যখন এ নিয়ে তামিমের সঙ্গে কথা বলেন, তখন বাঁহাতি ওপেনার মনে করেছিলেন, মজা করছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। এ নিয়ে তামিমের ভাষ্য, ‘আমি মনে করেছিলাম মাশরাফি ভাই মজা করে জিজ্ঞেস করছে, কখন আমি ব্যাট করতে নামব! প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্তটা এমন ছিল, শেষ ওভারে যদি নন স্ট্রাইকে থাকি, তাহলে মাঠে নামব।’

অষ্টম উইকেট পতনের পর সিদ্ধান্ত হয় আরেক উইকেট পড়লে, যদি মুশফিক স্ট্রাইকে থাকেন তবেই ব্যাট হাতে মাঠে নামবেন তামিম। অন্যথায় মাঠে নামবেন না তিনি। ৪৭তম ওভারে মুস্তাফিজ যখন বিদায় নেন, তখন নন স্ট্রাইকে ছিলেন মুশফিক। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নামার কথা ছিল না তামিমের। তবে মুস্তাফিজ আউট হতেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তামিম। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন মুস্তাফিজ আউট হলো, তখন পর্যন্তও নিশ্চিত ছিলাম না নামবো কিনা। শেষপর্যন্ত আমি কিছু চিন্তা না করেই নেমে পড়েছিলাম। আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল আমি নিশ্চিত কি না, আমি দ্বিধাহীন ছিলাম।’

নামার আগের প্রস্তুতির কথা জানাতে গিয়ে হেসে ফেলেন তামিম। জানান, প্রথমবারের মতো তার গার্ড পরিয়ে দিয়েছেন অন্য কেউ। তবে সে সময় সবাই তাকে সাহায্য করেছিল, তা জানাতে ভোলেননি তামিম। এ নিয়ে দেশসেরা এই ওপেনার বলেন, ‘রুবেল যখন ক্রিজে ছিল আমি তখন প্যাড আপ করা শুরু করি। মাশরাফি ভাই আমার গ্লাভস কেটে দেয়। জীবনে প্রথম কাউকে আমাকে গার্ড পরিয়ে দিতে হয়েছে। মমিনুল এবং অন্যরা আমাকে প্যাড পরতে সাহায্য করে। সবাই আমাকে তখন দারুণ সাহায্য করছিল।’

আবেগের বশেই সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলেন তামিম। তবে মাথায় ছিল দল ও দেশের কথা। এ নিয়ে তামিমের ভাষ্য, ‘এই এশিয়া কাপ নিয়ে আমার অনেক উচ্চাশা ছিল এবং আমি ওই মুহূর্তে আবেগের বশেই অমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল যদি আমি এক বল খেলে দল আরও ৫ কিংবা ১০ রান করতে পারে এবং সেটা দলের উপকারে আসে , তাহলে কেন নয়? আমার মনে হয় না আমার জীবনে এমন অভিজ্ঞতা আগে হয়েছে। এখন আমি সবার প্রতিক্রিয়া দেখছি, কিন্তু আমি যখন ব্যাট করতে নামছিলাম এসব কোনো কিছুই তখন আমার মাথায় ছিল না। আমি শুধু আমার দল এবং দেশের কথা ভেবে নেমেছিলাম।’

দিনশেষে তামিম অবশ্য মানছেন কাজটা সত্যি খুব ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এ নিয়ে তিনি বলেন ‘এখন মনে হচ্ছে খুব ঝুঁকিপূর্ণ ছিল কাজটা। আঘাতপ্রাপ্ত হাতটা আমার পেছনে ছিল, যদি খেয়াল করে থাকেন শট খেলার সময় হাত সামনে চলে এসেছিল আর বলটি মিস করলেই আমার ওই হাতেই আবার লাগতো।’

ঝুঁকি থাকলেও তামিমের সেই সাহসী সিদ্ধান্ত মন কেড়ে নিয়েছে সকল ক্রিকেটভক্তরই। প্লাস্টার করা হাতটাকে কোনোমতে গ্লাভসে আটকে রেখে তামিমের মাঠে নামা কিংবা একজন পেসারের ছোড়া বল এক হাতে ধরা ব্যাটে মোকাবিলা করার ওই দৃশ্য নিঃসন্দেহেই ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে আজীবন।

সূত্র: ইএসপিএন ক্রিক ইনফো

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here