সাতক্ষীরায় রুহুল হকের মানববন্ধনে সাংবাদিক লাঞ্চিত : টেলিভিশন নিউজ বর্জন

26

নড়াইল কণ্ঠ: সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হকের সাতক্ষীরা-৩ আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন না দেওয়ার দাবিতে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দলীয় নেতা কর্মীদের মানববন্ধন ও সমাবেশের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ডা: রুহুল হকরে সমর্থক দলীয় নেতাকর্মীরা। আর এই সমাবেশের নিউজ কভারেজ করতে গিয়ে ডা: রুহুল হকের কর্মী সমর্থকদের হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক ও বিভিন্ন টেলিভিশনে কর্মরত ক্যামেরা পার্সনরা। রোববার বেলা সাড়ে ১১ টার সময় সাতক্ষীরা নিউমার্কেটের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে গনমাধ্যম কর্মীদের সাথে রুহুল হকের ক্যাডার ইমরান হোসেন এ ঘটনা ঘটায় । পরে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়েগেলে সাংবাদিকদের কাছে পা ধরে ক্ষম চেয়ে এ যাত্রায় রেহায় পায় ইমরান হোসেন। তার বাড়ী আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নে। তবে এঘটনায় রুহুল হকের পক্ষে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধন কর্মসূচী ও সমাবেশের নিউজ বর্জন করেছেন টেলিভিশন সাংবাদিকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা: আ.ফ.ম রুহুল হককে মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহবান জানিয়ে মানবন্ধন করে ঢাকাস্থ সাতক্ষীরা-৩ আসনের আওয়ামীলীগের নেতা কর্মী ও সমর্থকরা। ঘুষ-দূর্নীতি, নিয়োগ বানিজ্য, জামায়াত-শিবিরের পৃষ্টপোষকতার অভিযোগ এনে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৩ আসন থেকে মনোনয়ন না দেওয়ার আহবান জানিয়ে বিভিন্ন প্লাকার্ড হাতে মানবন্ধন ও সমাবেশ করে তারা। মানববন্ধনে নেতৃত্বদেন ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি আফসার উদ্দিন বাবলু সহ আরো অনেকে। এঘটনার প্রতিবাদে রুহুল হকের কর্মী সমর্থকরা আবারও সাতক্ষীরা-৩ আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে সাতক্ষীরা নিউ মার্কেট চত্বরে মানবন্ধন ও সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ এর সভাপতি এসএম শওকত হোসেন, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আবু সায়ীদ, দেবাহাটা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: মুজিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান, জেলা মহিলা লীগ এর যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক লায়লা পারভিন সেঁজুতি, জেলা যুবলীগ এর সভাপতি আবদুল মান্নানসহ আশাশুনির বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা।
সমাবেশ সর্বশেষ বক্তব্য দিচ্ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। এ সময় বিভিন্ন টেলিভিশন সাংবাদিকরা ছবি নেওয়ার সময় সমাবেশ থেকে সাংবাদিকদের উপর তেড়ে উঠে ইমরান হোসেন নামে এক যুবলীগ কর্মী। এসময় সে সময় টিভির ক্যামেরা ম্যান শিমুল ও ৭১ টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান সাদিক সহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্্র মিডিয়ার ক্যামেরা পার্সনদের ক্যামেরা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক প্রথম আলোর সাতক্ষীরার নিজস্ব প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জি তাকে নিব্রিত করার চেষ্টা করলে তাকে দুই হাত দিয়ে ধাক্কামেরে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে ইমরান হোসেন আঙ্গুল উচিয়ে সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এসময় উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীরা একত্রিত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে সাতক্ষীরা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান ইমরানকে থানায় নিয়ে আসে। সেখানে সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে ওসির সামনে দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জির পা ধরে মাফ চেয়ে রেহায় পায় ইমরান হোসেন।