প্রাণ জুড়িয়ে দেওয়া সেঞ্চুরি মুশফিকের

42

থিসারা পেরেরা ও দিলরুয়ান পেরেরা এখন আফসোস করতেই পারেন। নিজের প্রথম ওভারেই উইকেটের দেখা পেতে পারতেন থিসারা। কিন্তু দিলরুয়ান পেরেরা স্কয়ারে ক্যাচ মিস করায় জীবন পান মুশফিকুর রহিম। তখন মাত্র ১০ রানে ব্যাট করছিলেন মুশফিক। জীবন পেয়ে সেটাকে বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ঝড়ের মুখে দাঁড়িয়ে তুলে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। ১২৩ বলে ৭ চার ও ১ ছয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুশফিক।

১৫ সেপ্টেম্বর, শনিবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টস ভাগ্যে জয় পেলেও বাংলাদেশের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। স্কোরকার্ডে এক রান যোগ করতেই প্রথম ওভারে বিদায় নেন টপঅর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস ও সাকিব আল হাসান। শুরুর সেই ধাক্কা না কাটতেই ইনজুরি সঙ্গী করে মাঠ ছাড়েন পরীক্ষিত ওপেনার তামিম ইকবাল।

এরপর দিকহারা বাংলাদেশকে পথ দেখান মোহাম্মদ মিথুন ও মুশফিকুর রহিম। তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে গড়েছেন ১৩১ রানের রেকর্ড জুটি। এই জুটি গড়ার পর লাসিথ মালিঙ্গার তৃতীয় শিকারে পরিণত হয়ে মাঠ ছাড়েন মিথুন। সঙ্গীর বিদায়েও খেই হারাননি মুশফিক।

মিথুনের পর বিদায় নেন আরও পাঁচ ব্যাটসম্যান। তাতে যেন আরও তাঁতিয়ে ওঠেন মুশফিক। শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ব্যাট করা মুশফিক সচল রাখেন দলের রানের চাকা। একই সঙ্গে লঙ্কান বোলাদের গতি ও ঘূর্ণির মুখে দাঁড়িয়ে নিজের ইনিংসটিকে রূপ দেন সেঞ্চুরিতে।

কেবল সেঞ্চুরি করেই থামেননি মুশফিক। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে খেলেছেন ১৪৪ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। ১৪৪ রানের এই ইনিংস খেলে স্পর্শ করেছেন বেশ কয়েকটি মাইলফলক।

এশিয়া কাপে এটাই বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। আর টুর্নামেন্টের ইতিহাসে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস এটি। পাকিস্তানের ইউনিস খানও ১৪৪ রানের ব্যক্তিগত ইনিংস খেলেছেন।

এই ইনিংসটি দিয়েই এশিয়া কাপে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন মুশফিক। এশিয়া কাপে ১৭ ম্যাচে মুশফিকের সংগ্রহ ৫৪১ রান। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন তামিম। ১৩ ম্যাচ খেলা তামিমের নামের পাশে রয়েছে ৫১৯ রান।

এই সেঞ্চুরিতে তৃতীয় বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করার পথেই রয়েছেন মুশফিক। এখন পর্যন্ত ১৮৮ ম্যাচে মুশফিকের সংগ্রহ ৪ হাজার ৯৭২ রান। ৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করতে তার দরকার মাত্র ২৮ রান।