খাবারের অভাবে ‘প্রতিকী অনশন’ করছে বিএনপি?

50

দুর্নীতির দায়ে কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পূর্বের দুই দফা প্রতিকী অনশনের ন্যায় ১২ সেপ্টেম্বর তৃতীয় দফা অনশন নিয়েও সমালোচনায় পড়তে হলো বিএনপিকে। বিএনপির প্রতি প্রশ্ন হচ্ছে, অনশন কিভাবে প্রতিকী হয়?
উইকিপিডিয়ার তথ্য বলছে, অনশন বা উপবাস বলতে শাব্দিকভাবে বোঝায় কোনরূপ খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ না করা। তবে খাবারের অভাবের কারণে অভুক্ত থাকা অনশন নয়। কিন্তু ‘প্রতিকী’ অনশনের কথা কোথাও উল্লেখ নেই। তাই বলায় যায়, বিএনপিই প্রথম যারা অনশনকে নিজেদের মতো ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে বারবার এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হলেও তা অব্যাহতভাবে পালন করে যাচ্ছে তারা।

শব্দগত দিক দিয়ে ‘প্রতিকী অনশন’ এর অর্থ বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, যেকোন উদ্দেশ্যে যদি হাসিলের নিমিত্তে গৃহীত পদক্ষেপ বা কর্মসূচি যা অনুরূপভাবে পালন সম্ভব নয়। যেমন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ড্রোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকী মূর্তি দাহ করেছে ট্রাম্প বিদ্বেষীরা। কারণ, ট্রাম্পকে সরাসরি হাজির করে পুড়িয়ে দেয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে বাংলাদেশের জনগণ কাদের মোল্লার প্রতিকী শরীর ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে দিয়েছে। কেননা, সেসময় কাদের মোল্লাকে সশরীরে পাওয়া অসম্ভব। প্রশ্ন হচ্ছে- বিএনপি পক্ষ থেকে না খেয়ে থাকা সম্ভব নয় কেন? খাবার নেই নাকি না খেয়ে থাকা কষ্টসাধ্য বলে?

বিএনপির বিতর্কিত কর্মসূচি এই প্রথম নয়, এর আগেও বিএনপি এমন অনেক প্রতিকী আন্দোলন, বিক্ষোভ, অনশন করেছে। যা বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ। একটি রাজনৈতিক দল হয়ে যদি কেবল প্রতিকী আন্দোলন, প্রতিকী বিক্ষোভ, প্রতিকী অনশন করে মাঠ সরগরম করে রাখার চেষ্টা করে তবে সত্যি সত্যি বিক্ষোভ, আন্দোলন, অনশন করবে কবে? তবে কী দিনে দিনে বিএনপি নিজেই একটি প্রতিকী দল হয়ে যাচ্ছে?