‘প্ল্যান-এ’ তে ব্যর্থ হয়ে ‘প্ল্যান-বি’ নাটক মাহী বি. চৌধুরীর

38

নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেই কিছু মৌসুমী রাজনীতিবিদের আবির্ভাব হয় রাজনীতিতে, যারা জনগণের দোরগোড়ায় না গিয়ে বিলাসবহুল হল রুমে বিভিন্ন ধরণের সভা সেমিনারে মুখরোচক কথা বলতেই বেশি পছন্দ করেন। জনবান্ধব রাজনীতির বদলে তাদের এই সেমিনার বান্ধব রাজনীতির প্রভাবও ভোটের বাক্সে পড়ে। এসব মৌসুমী সেমিনার বান্ধব রাজনীতিবিদদের নির্বাচনে জামানত রক্ষা করা নিয়েই টানাটানি শুরু হয়। তেমনই একজন সেমিনার টক শো বান্ধব রাজনীতিবিদ হচ্ছেন মাহী বি চৌধুরী।

মাহী বি বিকল্পধারা নামক এক আনকোড়া রাজনৈতিক দলের অন্যতম নেতা। আরো উল্লেখ্য বিকল্পধারার প্রধান কর্ণধার হচ্ছেন মাহী বি চৌধুরীর বাবা ও বিএনপি থেকে বিতাড়িত সাবেক বিএনপি নেতা বি. চৌধুরী। মজার বিষয় হচ্ছে- পিতা-পুত্র ছাড়া এই রাজনৈতিক দলে আর কোনো উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নেই।

২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেয় বিকল্পধারা। কুলা প্রতীক নিয়ে বি চৌধুরী পুরান ঢাকা ও তার ছেলে মাহী চৌধুরী মুন্সিগঞ্জের আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পুরান ঢাকার আসনটিতে জামানত হারান বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব ও সাবেক রাষ্ট্রপতি। আর মুন্সিগঞ্জের যে আসনে বিএনপির হয়ে কখোনেই হারেননি বি চৌধুরী সেখানে কোনো রকমে জামানত ঠেকাতে পেরেছিলেন। সারাদেশে ৬৩ জন প্রার্থীর ৬১ জনই জামানত হারায়। আর সব মিলিয়ে দেড় লাখ ভোটও তারা পাননি।

বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী এবার ‘প্ল্যান বি’ নিয়ে মাঠে নামছেন। ‘প্রজন্ম বাংলাদেশ’ নামের একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে ‘প্ল্যান বি’-এর অংশ হিসেবে উদ্বোধন হয়েছে ‘ইয়ুথ ক্যাম্পেইন’।

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে কি ছিল মাহীর ‘প্ল্যান এ’ তে? কেনই বা ‘প্ল্যান এ’ বাদ দিয়ে ‘প্ল্যান বি’ তে যেতে হলো মাহী বি চৌধুরীর?

মাহীর প্ল্যান এ তে মূলত ছিল বিএনপির সাথে আঁতাত করে নির্বাচনে যাওয়া। যেহেতু বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবাসে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক লন্ডনে পলাতক সেই সেই সুযোগে বিএনপির সাথে জোট করার নাম করে বিএনপির নেতৃত্বভার দখলের ষড়যন্ত্র করেছিলেন মাহী ও তার বাবা বি চৌধুরী। কিন্তু অতীত ইতিহাস ও ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়ে তাদের সাথে জোট করতে রাজি হয়নি বিএনপি। ফলে মাহি তার ‘প্ল্যান এ’ বাস্তবে রূপ দিতে পারেনি এবং পরবর্তী পরিকল্পনা অনুযায়ী প্ল্যান বি নিয়ে মাঠে নেমেছে।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর মাহী ও তার বাবার এতটুক উপলদ্ধি হওয়ার কথা- জনবিচ্ছিন্ন হয়ে শুধুমাত্র সেমিনার কিংবা টকশোতে মুখরোচক কথা বলে একটি দেশের নেতৃত্বভার গ্রহণ করার চিন্তা করাটা অমূলকই বটে। সভা সেমিনারে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমিক হওয়ার সবক দিয়ে রাতের আঁধারে যারা পেছনের দরজা দিয়ে অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে তারা আর যাই হউক দেশপ্রেমিক হতে পারেনা।

প্রচলিত রাজনীতি করে সুবিধা করতে না পেরে মাহী বি এক রকম বাধ্যই হয়েছেন ‘প্ল্যান-বি’ নাটক সাজাতে। কিন্তু মানুষ এখন অনেক সচেতন, আর তাই আবারো ফ্লপ মাহী। তাহলে ব্যর্থতার নিরিখে কী পিতার পথই অনুসরণ করছেন মাহী বি চৌধুরী?