কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে মাঠে নামার পরিকল্পনা শিবিরের

42

নড়াইল কণ্ঠ : যেকোন আন্দোলনকে ভিন্নখাতে রূপ দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে বিএনপি-জামায়াত। আর তাতে মাঠপর্যায়ে কাজ করে ইমলামী ছাত্র শিবির। তাদের বেশি কিছু কু-পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে এরইমধ্যে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিতকরণ চেষ্টা। কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিবিরের সম্পৃক্ততা জনসম্মুখে আসলে তাদের উদ্দেশ্য ফাঁস হয়ে যায়। তখন জামায়াত-শিবির তাদের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসলেও সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলনকে নতুন দিকে মোড় দেয়ার জন্য এবার প্রকাশ্যে শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব মাঠে নামার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজধানীর আজিমপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিতর্কিত নেতা রাশেদ খানের চাচাতো বোনের বাসায় এক বৈঠকে শিবিরের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সাথে গোপন বৈঠক করেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা। সেখানে কোটা সংস্কার আন্দোলনের পরবর্তী ধাপে সম্পূর্ণ ক্লিন সেভ করে শিবিরের কর্মীদের মাঠে নামিয়ে বড়সড় সো-ডাউনের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

সূত্র বলছে, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূরের নেতৃত্বে আট সদস্যের প্রতিনিধি দল শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইনের সাথে গভীর রাতের ওই বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নূর সরাসরি শিবির নেতাদের নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে আগামীর আন্দোলনে আরও শিবির কর্মী মাঠে নামার জন্য অনুরোধ করেন। অপরদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সন্ত্রাসী সংগঠন শিবিরের নেতা মোবারক হোসাইন কোটা আন্দোলনের নামে শিবির কর্মীদের মাঠে নামার পরিকল্পনার কথা আগে থেকেই রয়েছে বলে জানিয়ে নূরকে আশ্বস্ত করেন।

এদিকে এরইমধ্যে বৈঠকে গৃহীত পদক্ষেপের ফলশ্রুতিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিতর্কিত নেতা রাশেদ খান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে আগামী দিনে কঠোর আন্দোলনের কথা প্রকাশ্যে আনেন। জানা যায়, কোটা সংস্কার আন্দোলনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার অজুহাতে যেকোন সময় মাঠে নামবে শিবির কর্মীরা। যেহেতু বিগত দিনে সাধারণ আন্দোলনকারীরা আন্দোলনে শিবিরের সম্পৃক্ততা পেয়েছে ফলে নতুন করে আন্দোলন শুরু করতে সাধারণ ছাত্রদের সহযোগিতা পাওয়া যাবে না। তাই সন্ত্রাসী সংগঠন শিবির কর্মীদের উপস্থিতি ছাড়া আন্দোলন করা সম্ভব নয় বলেই মনে করে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা।

অপরদিকে শিবিরের উচ্চপর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, কোটা আন্দোলনের নামে নতুন করে মাঠে নেমে নির্বাচনের আগে সরকারকে বিপদগ্রস্ত করার সুযোগ এখনই। তাতে বিএনপি-জামায়াত-শিবির প্রত্যেক্যেই লাভবান হবে। জানা গেছে, ওই বৈঠকে নতুন করে আন্দোলনের জন্য শিবিরের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের পরখ করে নেয়ার জন্য কোটা আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই আন্দোলনে শিবিরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সামর্থ্য প্রমাণ করাও খুব জরুরি বিষয় বলে মনে করছে অর্থ যোগানদাতা রাজনৈতিক জোট বিএনপি-জামায়াত।

প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন আহমেদের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কথোপকথনের যে অডিও রেকর্ডটি ভাইরাল হয়েছে সেটিতে শিবিরকে সাথে নিয়ে বিএনপির টাকায় সরাসরি এই আন্দোলনকে পরিচালনার দিক-নির্দেশনা পাওয়া যায়। কোটা আন্দোলনের ইন্ধনদাতা তারেক রহমান লণ্ডন থেকে শিবিরকে অর্থ সহযোগিতা দেয়ার মাধ্যমে কোটা আন্দোলনকে টিকিয়ে রেখে সরকার পতনের স্বপ্ন দেখছেন বলেও কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিতর্কিত নেতা রাশেদ খান তার জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন।