বিএনপিকে জামায়াতের নতুন ধাক্কা!

24

দুর্নীতি মামলায় কারান্তরীণ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ব্যাপারে ২০ দলীয় জোটের মধ্যে অনেকেই সরব থাকলেও এর আশেপাশে পাওয়া যায়নি সম্পর্কের টানাপোড়েনে থাকা জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী। কারান্তরীণ হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মাঠে দেখা মেলেনি তাদের।
জানা গেছে, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের জোটগত সম্পর্ক থাকুক চাই না থাকুক খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কোনক্রমেই কথা বলতে রাজি নয় দলটি। খালেদা জিয়ার কারামুক্তির শেষ পদক্ষেপ বিষয়ে জামায়াতের সমর্থন পেতে ৩ সেপ্টেম্বর কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতার সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন নেতা সরাসরি সাক্ষাৎ করলে তারা তাদের অবস্থান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে।

সূত্র জানায়, জামায়াত নেতাদের কাছে ওই দিন মির্জা ফখরুল, মওদুদ আহমেদ সহ বেশ কয়েকজন নেতা সাক্ষাতে যান। তারা সেখানে সব ভেদাভেদ ভুলে দলীয় প্রধানকে মুক্ত করার জন্য জামায়তের সহায়তা চান। বিএনপি নেতারা বলেন, ভুল উভয় পক্ষেরই আছে। সুতরাং আগে দলীয় প্রধানের মুক্তি হোক তারপর এ নিয়ে মিমাংসায় যাওয়া যাবে। নেতাদের এমন প্রস্তাব সমূলে নাকোচ করেছে জামায়াত। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, খালেদা জিয়ার কারামুক্তি নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেয়া সম্ভব নয়।

যদিও খালেদার জিয়ার মামলার রায়ের আগে ও পরে জোটের বৈঠকে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াতের। ওইসব বৈঠকে খালেদা জিয়ার সাজা হলে রাজপথে থেকে গণআন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ছিল জামায়াতের। কিন্তু দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার দণ্ড হলে জোটের শরিকরা কম বেশি মাঠে নামলেও দেখা মেলেনি অন্যতম শরিক জামায়াতের।

অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়া দলীয় ও ব্যক্তিগত কারণে সাজাভোগ করছেন। এটা নিছক বিএনপির ইস্যু। এ কারণে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিএনপির চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নামছে না। জামায়াত নেতাদের যুক্তি হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সাজা হলে বিএনপি নীরব ভূমিকা রেখেছে। আন্দোলনের আশ্বাস দিয়েও পরে কথা রাখেনি। জামায়াত নেতারা মনে করেন, তখন বিএনপির ভাবখানা এমন ছিল যে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত নেতাদের সাজার বিষয়টি একান্তই তাদের নিজস্ব বিষয়। বিএনপি যুদ্ধাপরাধের দায় নেবে কেন? তাই খালেদার সাজার বিষয়ে জামায়াত একই ধরণের মনোভাব পোষণ করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের একাধিক নেতা বলছেন, দেড় যুগের মিত্রতা থাকলেও জোট নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে জোটের ইস্যু মনে করছেন না তারা। বরং ২০১৪ সালে বিএনপির জন্য জামায়াতের ত্যাগের যে মূল্যায়ন পেয়েছে তা অক্ষরে অক্ষরে মনে রাখবে দলের প্রত্যেক নেতা। বিএনপি জামায়াতকে ব্যবহার করে সুবিধা নিতে চায় বলেও মনে করেন তারা। সেই সুবিধা আর দিতে রাজি নয় জামায়াত। জামায়াতের সমর্থন পেতে বিএনপি নেতাদের এ ধাক্কা নতুনমাত্রা তৈরি করলো বলেই প্রতিয়মান হচ্ছে।