চিত্রানদীতে এস, এম সুলতান নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা

133

নড়াইল কণ্ঠ : ‘সকল প্রকার দূষণ হতে চিত্রাকে বাঁচাই’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে নড়াইলের গ্রাম বাঙলার ঐতিহ্যবাহি নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ব বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৯৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল ২টায় এস এম সুলতান ফাউন্ডেশন ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে চিত্রানদীতে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আহবায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে দুপুর ২টায় পুরুষদের নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এ প্রতিযোগিতা চিত্রার উপর শেখ রাসেল সেতু পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে তিন কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে এস,এম সুলতান সেতুতে গিয়ে শেষ হয়। এরপর নারীদের নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা একই স্থান থেকে শুরু হয়ে বাঁধাঘাটে গিয়ে শেষ হয়।
দেশের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ১৫টি পুরুষ এবং পাঁচটি নারী দলের ৫টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। এরমধ্যে পুরুষদের কালাই নৌকা ৯টি, ঢালাই নৌকা ৬টি এবং নারীদের ৫টি এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

নৌকা বাইচ শেষে বিকাল ৫টায় শহরের বাঁধাঘাট চত্বরে এ প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বিরেন শিকদার এমপি বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

এস এম সুলতান ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বিরেন শিকদার এমপি, বিশেষ অতিথি খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া।

এ সময় অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিমউদ্দিন পিপিএম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা সেলিম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু, ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু প্রমুখ।

নৌকা বাইচ ভালো লাগার কথা জানিয়ে দর্শকরা বলেন, নৌক বাইচ ভাল লাগে বলে এইদিনের সকল কাজকর্ম ফেলে রেখে ছুটে আসি দেখতে। প্রতিবছর আমরা এ দিনটির জন্য অপেক্ষায় থাকি।

আয়োজকরা জানান, সুলতান সবসময় গ্রাম-বাংলার সাংস্কৃতিকে লালন পালন করতেন। আর তার সেই আজীবনের লালিত স্বপ্নকে ধরে রাখতেই প্রতিবছর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, দেশের আদি সংস্কৃতি ও ঐহিত্যকে সমুন্নত রাখার উদ্দেশ্যেই এই আয়োজন। ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ শত শত বছর ধরে আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম স্মারক, কেননা নদীমাতৃক বাংলাদেশে, নদী হচ্ছে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য ও ক্রীড়াক্ষেত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নৌকা বাইচ হচ্ছে একটি মূলধারার ঐতিহ্যবাহি কার্যক্রম এবং এটি হাজার হাজার দর্শক, শুভানুধ্যায়ি, সমর্থক, পৃষ্ঠপোষক ও খেলোয়াড়দের সমবেত করে।
এই চিত্রানদীতে এসএম সুলতান নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা প্রায় ২৭/২৮ বছর ধরে হয়ে আসছে।