বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে মান্নার বিরোধ,শঙ্কিত বিএনপি

37

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক: যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরাম একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর বিএনপি সমর্থিত বুদ্ধিজীবীগণ বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করে। বিএনপির পক্ষ থেকে উক্ত দলগুলোকে স্বাগতমও জানানো হয়। এছাড়া কোন ঠাসা বিএনপি কোনো কূল কিনারা খুঁজে না পেয়ে শেষ মেষ গণফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে জোট বাঁধতে প্রস্তাবও পেশ করে।
অপরদিকে বিএনপির সঙ্গে জোট গড়তে উল্টো বিএনপিকেই শর্ত দিয়ে বসে গণফোরাম। ড. কামালের দেওয়া তিনটি শর্তের প্রথমটি হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী থাকলে তিনি সেই জোটে থাকবেন না । দ্বিতীয় শর্ত হলো, বিএনপিকে তাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তির আন্দোলন দলীয়ভাবেই এগিয়ে নিতে হবে। দুইবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ন্যায় বিচার পাওয়ার প্রশ্নে জোটের সমর্থন থাকতে পারে। কিন্তু খালেদা জিয়ার মুক্তিতে জোটগতভাবে কোনো কর্মসূচি দেওয়ার দাবি তোলা যাবে না। তৃতীয় শর্তটি হলো, লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার লড়াইটা বিএনপিকে একাই চালিয়ে যেতে হবে। জোটগতভাবে তাকে দেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হবে না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই যে ড. কামালের দেয় সব শর্ত মেনে বিএনপি গণফোরামের সঙ্গে ঐক্য করতেও রাজি যায়। তবে শেষ সময় এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন মাহমুদুর রহমান মান্না। ফলে ঐক্য নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এন্টি আওয়ামী লীগ সমর্থিত গ্রুপ।
এদিকে বিএনপির ঘনিষ্ঠ সূত্র বরাত জানা যায়, গণফোরাম নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় জাতীয় ঐক্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীরা।
মূলত কূল কিনারা হারিয়ে কোনঠাসা বিএনপি চাইছিলো যে কোনো উপায়ে ঐক্য গঠন করে ফ্রন্ট ফুটে আসতে। কিন্তু বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও মাহমুদুর রহমান মান্নার দ্বন্দ্ব সম্মুখে আসলে তাদের সে আশায় মরিচিকা ধরে যায়।
তৃতীয় ধারার এক নেতা এ প্রসঙ্গে আক্ষেপ করে বলেন, একটি দল গঠনের আগেই যদি দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে যায়, তবে সে দলের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। অপর দিকে বিএনপি সব শর্ত মেনে জোট করতে চেয়েছিলো। তবে এখন গণ ফোরামের সঙ্গে অন্যদলগুলোর জোট থাকে কি না তা নিয়েই সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। এমন চলতে থাকলে দল গঠনের আগেই মুখ থুবরে পড়ে ড. কামালের নতুন জোটটি।