বাংলাদেশ পবিত্র মক্কায় পানি সমস্যার সমাধান করবে

0
18
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

সৌদি আরবের পবিত্র মক্বা নগরীর বাসা-বাড়িতে পনির সমস্যা সমাধান দেবে বাংলাদেশ। এজন্য দেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডাটাসফট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটি আইওটি ডিভাইস তৈরি করেছে। প্রাথমিকভাবে মক্কা নগরীর প্রায় পাঁচ হাজার ঘরবাড়িতে পানি সমস্যার সমাধান হবে। এই খাতে রপ্তানি মূল্য দাড়াবে প্রায় আট কোটি টাকারও বেশি। মক্কার স্থায়ী বাসিন্দা ২০ লাখ কিন্তু প্রতিবছর হজ্বের সময় ৪ গুণ বেশি লোকের সমাগম দেখা যায় সেখানে। এতো মানুষের পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই দেশটিতে। সেখানে বিভিন্ন কোম্পানি ট্যাংকারের মাধ্যমে বাসায় বাসায় পানি পৌঁছে দেয়। হঠাত্ পানি শেষ হয়ে গেলে বিপাকে পরে হজ্ব যাত্রীরা। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যেই বাংলাদেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডাটাসফট এইওটি ডিভাইসটি আবিষ্কার করে। ত্রিশ বছরেরও অধিক সময় ধরে নাসায় চাকরি করা রতন হাসানের নেত্রীত্বে এই ডিভাইসটি তৈরি করা হয়।

ডাটাসফটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রতন হাসন এ বিষয়ে বলেন, ‘পবিত্র মক্কা নগরীতে হাজ্বীদের পানির সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা এই ডিভাইসটির উদ্ভাবন করি। প্রথমে চায়না থেকে কাঁচামাল এনে ডাটাসফটের পরিকল্পনা মোতাবেক তৈরি করা হয় ডিভাইসটি। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপ, সফটওয়ার বিল্ডআপ করা থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ আমাদের এখানে করা হয়েছে।’ ডিভাইসটি পবিত্র মক্কা নগরীতে সরবরাহ করবে ‘স্যাক্ আলভাতানিয়া’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। পরীক্ষামূলকভাবে ডাটাসফট কালিয়াকৌর হাইটেক পার্কে আপাতত একশ’টি ডিভাই তৈরি করেছে। যেগুলো আগামি সপ্তাহে রপ্তানি করবে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু পানি সমস্যাই নয়, ইন্টারনেট অব থিংকস বা আইওটি ধর্মী অনেকগুলো ডিভাইস নিয়ে গবেষণা করছে প্রতিষ্ঠানটি। সফটওয়্যার কোম্পানি হলেও ডাটাসফট অল-ইন-ওয়ান পিসি, পকেট কম্পিউটার ও ল্যাপটপ তৈরি করতে চায় দেশেই।

কী আছে?
‘ওয়াটার ট্যাংক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সল্যুশন’ প্রযুক্তিতে সফটওয়্যারের পাশাপাশি একটি ডিভাইস সংযুক্ত করতে হয়। ডিভাইসটি দেখতে সাধারণ অনেকটা লাইট বা ফ্যানের সুইচ বোর্ডের মতো। লাগানোও হয় দুই বাই তিন ইঞ্চির সুইচ বোর্ডের সঙ্গে। তাই এটি যে আলাদা কোনো ডিভাইস, তা বোঝারও উপায় থাকে না। এটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয় অ্যাডাপ্টরের মাধ্যমে। আর পানির ট্যাংকের ভেতরে বসানো থাকে সেন্সর।
কাজ করবে যেভাবে
আইওটি ডিভাইসটি কাজ করবে জিপিআরএস যোগাযোগের মাধ্যমে। সেন্সর থেকে রিসিভার হয়ে সার্ভার এবং সর্বশেষ সেটি গ্রাহককে জানান দেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হবে কাজ।
প্রথমে আইওটি ডিভাইসগুলো মক্কার বাসাবাড়ির পানির ট্যাংকের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে। ট্যাংকের ভেতরে বসানো থাকবে মোট দুটি সেন্সর। আর একটি রিসিভার বসানো হবে বাসার যেকোনো স্থানে। রিসিভারটিতে অ্যান্টেনা থাকবে।
এই অ্যান্টেনার মাধ্যমে ট্যাংকের অবস্থা রিসিভারে পাঠিয়ে দেবে সেন্সরের মাধ্যমে। রিসিভারে আসা তথ্যগুলো চলে আসবে বাংলাদেশে থাকা ডাটা সফটের ক্লাউড সার্ভারে। সার্ভারে জমা হওয়া সব তথ্য তিনটি পদ্ধতিতে জানতে পারবেন বাড়ির মালিক—ই-মেইল, এসএমএস এবং মোবাইল অ্যাপে। এ ক্ষেত্রে মোবাইল অ্যাপে পাওয়া যাবে বিস্তারিত।

কাজ করছেন তরুণ প্রকৌশলীরা
আইওটি ডিভাইসটি তৈরিতে যুক্ত আছেন এক দল তরুণ প্রকৌশলী। তাঁদের মধ্যে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছেন মো. আখতারুজ্জামান। এ ছাড়া সার্ভার ব্যবস্থাপনায় আছেন সুমাইয়া নোহা, মোবাইল অ্যাপে হৃদয়, অন্যান্য প্রকৌশলে কাজ করেছেন হাসান মাহমুদ, আরিফুল হক এবং অপূর্ব সাহা।

শুরু হয়েছে রপ্তানি
ডাটা সফটের তৈরি করা আইওটি ডিভাইস রপ্তানি শুরু হয়েছে। প্রথম অবস্থায় ডিভাইসটি আমদানি করছে সৌদি আরবের মক্কার একটি প্রতিষ্ঠান স্যাক আলভাতানিয়া। ৩১ জুলাই গাজীপুরের কালিয়াকৈর বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির ডাটা সফট কার্যালয়ে প্রথম লটের ডিভাইসগুলো হস্তান্তর চুক্তি হয়। প্রথম লটে ১০০টি আইওটি ডিভাইস রপ্তানি করল ডাটা সফট সিস্টেম লিমিটেড। তবে এই সংখ্যা ৫ হাজার এবং তারপর ১০ হাজার হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাহবুব জামান। মক্কা ছাড়া অন্যান্য শহরেও যোগাযোগ শুরু করছে ডাটা সফট।

বড় উৎপাদনের লক্ষ্য
আইওটি ডিভাইসটি তৈরি হয়েছে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে। সেখানে এটি ডাটা সফটের প্রথম কোনো আইওটি ডিভাইস তৈরি। প্রথমে তৈরি হয়েছে ১০০টি।
যদি ব্যবহারে সফলতা আসে, তবে এই উৎপাদন বাড়িয়ে উন্নীত করা হবে লাখে।
তৈরি হচ্ছে আরো ডিভাইস
আইওটির পাশাপাশি ডাটা সফট সিস্টেমস আরো কিছু ডিভাইস তৈরিরে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ও ব্যাবসায়িক কাজে ব্যবহারের জন্য স্বল্প মূল্যের কম্পিউটার ‘তালপাতা-ক’ ও ‘তালপাতা-ব’ তৈরি করেছে তারা।
এই ল্যাপটপগুলো সৌরশক্তির মাধ্যমেও চালানো সম্ভব হবে।
এ ছাড়া যেকোনো মনিটর বা টিভিকে কম্পিউটারে রূপান্তর করার ডিভাইস ‘পকেট পিসি’ নিয়ে শিগগিরই বাজারে আসবে তারা।
দূরলিখন ও করপোরেট কাজে ব্যবহারের জন্য স্মার্ট হোয়াইট বোর্ডও তৈরি করছে প্রতিষ্ঠানটি। বছরের শেষভাগে ডিভাইসটি বাজারে পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
পাশাপাশি ক্যাসিনো, ক্রুজশিপ ও সমুদ্রবন্দরে ব্যবহারের জন্য আইওটিভিত্তিক সল্যুশন নিয়ে কাজ চলছে ডাটা সফটে। আর তাদের তৈরি নিরাপত্তা কাজে ব্যবহৃত ফেইস রিকগনিশন, স্মার্ট হোম, স্মার্ট টোলসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি তো এরই মধ্যে ব্যবহার শুরু হয়েছে দেশ-বিদেশে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here