যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সভায় তারেকের গুজব, বক্তব্যে প্রাধান্য পায়নি দল পুনর্গঠনের

41

বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় বক্তব্য রাখেন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এক ঘন্টা ১৫ মিনিটের বক্তব্যের প্রায় পুরোটা জুড়েই সরকারের নামে গুজব ছড়ানো হয়েছে, তবে দলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ও দলের পুনর্গঠনের বিষয়টি উঠে আসেনি তার বক্তব্যে।
প্রতিনিয়ত বিএনপি ভাঙছে। তাই প্রয়োজন দলের পুনর্গঠন। তারেক ও খালেদা সরাসরি দলের হাল ধরতে পারছে না। আর এ সুযোগে দলের সুবিধাবাদী নেতারা দল ভাঙার পাঁয়তারা করছে। তাই দলের পুনর্গঠন জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে বিএনপির জন্য।
বেশ কয়েকটি আন্দোলরের উপযুক্ত সময় পেয়েও বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে। অধিকাংশ সিনিয়র নেতা মন থেকে চায় না আন্দোলন করতে আবার কিছু নেতা চায় আন্দোলন করে ক্ষমতায় যেতে। দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে তৃণমূল নেতারা এখন দিশেহারা। কেন্দ্র থেকে বারবার আন্দোলনের কথা বললেও তৃণমূল নেতাদের পাশে পাওয়া যায় নি।
লন্ডনের সমাবেশে দলের পুনর্গঠন নিয়ে তারেক রহমানের কাছে থেকে দিকনির্দেশনা আশা করেছিল নেতারা। তারেক তার বক্তব্যে দলীয় ইস্যু প্রাধান্য না দিয়ে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর নামে সমালোচনাসহ গুজব ছড়াতে থাকে।
গভীর রাতে লাইভে এসে অপপ্রচার ছড়ানোর জন্য তারেক রহমানের কড়া সমালোচনা করে সুশীল সমাজের এক প্রতিনিধি বলেন, সরকার বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম করে, নালিশ দিয়ে বিএনপি নেতারা ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত। এসব পরিশ্রমের পর রাত জেগে তারেক রহমানের সাজানো মিথ্যা শোনার ইচ্ছা বা আগ্রহ সাধারণ মানুষের তো নেই সঙ্গে বিএনপি নেতাদেরও নেই। খালেদা জিয়ার মত তারেক রহমানের গভীর রাতে বৈঠক, প্রেস ব্রিফিং, জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া বানোয়াট ভাষণ শোনার টাইম নাই নেতাদের। তাদের মতে, বাহিরের দেশে বেডরুমের শীতল পরিবেশে বসে সরকার পতনের আন্দোলনের নামে ভাষণ দেওয়া অনেক সহজ। সাহস থাকলে দেশে ফিরে রাস্তায় নেমে রাজনীতি করেন! রাস্তায় নেমে বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে আন্দোলন করলে মানুষ আপনাকে নেতা মানবে। বাংলাদেশের মানুষ এতটা বোকা না। গভীর রাতে ভাষণের নামে নালিশ করা মানুষ শুনবে না। অযথা মানুষকে বিরক্ত করার কোন মানেই হয় না। এর থেকে দলের ভাঙন রক্ষায় কিছু বললে কাজে লাগতো বিএনপির জন্য।