বি. চৌধুরী-কামাল-মান্না জাতীয় ঐক্যের নামে তামাশা করছেন, অর্থদাতা ইউনূস

44

জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারের সাথে দর কষাকষি করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ফায়দা লুফে নেওয়ার জন্য জাতীয় ঐক্য গঠনের নামে রাজনৈতিক তামাশায় মেতেছেন একদল নামমাত্র রাজনৈতিক দলের নেতারা। এই তামাশার প্রধান চরিত্রে রয়েছেন বিকল্প ধারার সভাপতি বি. চৌধুরী, গণফোরামের ড. কামাল হোসেন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এবং জেএসডি একাংশের সভাপতি আ.স.ম আব্দুর রব। তাদের এই রাজনৈতিক প্রকল্পে অর্থ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন গরীবের রক্তচোষাখ্যাত গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক মালিক ড. ইউনূস। প্রতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক নাটক সাজান বয়োজ্যেষ্ঠ এই নেতারা। অথচ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জামানত পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত হয় তাদের।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারের সাথে আঁতাতের নামে নতুন পাঁয়তারায় মেতেছেন এই তিন নেতা। রাজনৈতিক জীবনে ব্যর্থ এই নেতারা সারা বছর নীরব থাকলেও নির্বাচনে ঠিক পূর্বে সরব হয়ে ওঠেছেন। নিজেদের ডিগবাজির রাজনীতির জন্য জনগণের কাছে অবহেলিত ও উপেক্ষিত এই সব নেতারা তাই বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে রাজনৈতিক জোট গঠন করার নামে পয়সা ইনকামের চেষ্টা করছেন। বলে রাখা ভালো এই নেতাদের অতীত রাজনৈতিক জীবন বেশ কলঙ্কিত এবং হাস্যকর। ড. কামাল হোসেন বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনীতি করেছেন। বঙ্গবন্ধুর সরকারের কাছ থেকে অনেক সুবিধা নিয়েছেন। অথচ বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর এই কামাল হোসেন গিরগিটির মত রং পরিবর্তনও করেছেন। দল পাল্টিয়ে বিদেশি পালিয়ে ছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন না ড. কামাল। ড. কামাল দেশের সংকটকালে বিদেশে বসে থাকতে বেশি পছন্দ করেন। তিনি বিদেশি রাষ্ট্রের পোষ্য। তার পকেটে সব সময় প্লেনের টিকেট থাকে। কখন প্রয়োজন হয় পালিয়ে যাওয়ার কে জানে!
বি. চৌধুরী বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। অথচ জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর তার আসল রূপ বুঝতে পারেন বেগম জিয়া। বেগম জিয়া বিশ্বাস করে দলের দায়িত্ব তার হাতে দিলে বি. চৌধুরী রাজনীতির নামে স্বেচ্ছাচারিতা শুরু করেন। স্বজনপ্রীতির ও অপরিপক্ক রাজনীতি চর্চার জন্য খালেদা জিয়া তাকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বহিষ্কার করেন। এই বি. চৌধুরীকে রেললাইনে ধাওয়া করার পরও তিনি খালেদা জিয়ার কাছে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বিএনপির হাতে অপমান-অপদস্থ হওয়ার পরও তার কোনো শিক্ষা হয়নি। তাকে বিএনপি মেরে ফেলতে চেয়েছিল। তবু তিনি ভিন্ন দলের নামে বিএনপির সঙ্গেই আছেন। মাহমুদুর রহমান মান্না আরেক আজব রাজনীতিবিদ। কালে কালে তিনি দল পাল্টান। সবশেষ নাগরিক ঐক্য নামের নাম সর্বস্ব একটি দলে মালিক বনেছেন। মান্না একাধিকবার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন এবং নিজ অপরাধের জন্য জেলও খেটেছেন। মান্না সরকার ও রাষ্ট্রকে বিতর্কিত করার জন্য মোবাইলে একাধিকবার উসকানি দিয়ে ধরা খেয়েছেন। আ.স.ম আব্দুর রব মাঝে মাঝে উদয় হয়ে দু-একটি কথা বলে আবারও হতাশার সাগরে ডুব দেন। যুক্তিহীন কথা বলে বরাবরই সমালোচনায় পড়তে হয় এই নেতাকে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রের ঐক্য গঠনে অর্থের যোগানদাতা হিসেবে কাজ করছেন এক সময়ের গ্রামীণ ব্যাংকের স্বেচ্ছাচারী মালিক ড. ইউনূস। গরীব মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের নামে ইউনূস তাদের রক্ত চুষে খেয়ে বড়লোক হয়েছেন। টাকা দিয়ে নোবেল প্রাইজ কিনে রাজনৈতিক দল গঠন করে বিদেশি রাষ্ট্রের আদেশে বাংলাদেশকে শোষণ করতে চেয়েছিলেন। এই ইউনূস বাংলাদেশ সরকারের উপর প্রতিশোধ নিতে তাই জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া গঠনের জন্য বিদেশ থেকে ফান্ড এনে দিচ্ছেন এবং নিজেও বিনিয়োগ করছেন। সফল হলে তিনি বিনিয়োগের ডাবল টাকা তুলে নিবেন এবং গ্রামীণ ব্যাংকে আবার স্বেচ্ছাচারিতা শুরু করবেন।