দেশের দক্ষ জনবল পরিচালনা করবে রূপপুর

46

দেশের পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার অন্তর্গত পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ফলে দেশের সব ক্ষেত্রে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। শুধু তাই নয় উন্নত বিশ্বের ন্যায় দেশেও উৎপন্ন হবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ।

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ঘিরে পাবনায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে বেশ কিছু প্রকল্প। কারণ এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনা করার জন্য অনেক দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হবে। তাদের সেই প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সরকার আধুনিক নগরীর ব্যবস্থা করেছেন। যেখানে আগে দিনের আলোর পরে আলো দেখা দুষ্কর ছিল সেখানে আজ বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হচ্ছে গোটা এলাকা। দেশের প্রথম ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ এর মতো পারমাণবিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিও পরিচালিত হবে দক্ষ জনবলের মাধ্যমে। এই পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনা করার জন্য তিন হাজার জনবল নিয়োগ দিবে সরকার।

আমাদের দেশে একটি প্রচলিত ধারণা ছিল বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এক পর্যায়ে দেশে থাকে না- কারণ দেশে বিজ্ঞান চর্চার সুযোগ কম এবং পড়াশোনা শেষে ঠিক মতো মূল্যায়ন করা হয় না। কিন্ত কেউ ধারণাকে ভুল প্রমাণ করার সময় এখন চলে এসেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশ আজ তথ্য-প্রযুক্তিতে উন্নত হয়েছে। এজন্য দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাড়ছে বিজ্ঞানের ব্যবহার এবং প্রয়োজন হচ্ছে দক্ষ জনবলের। যা নিয়োগ করা হচ্ছে দেশের দক্ষ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মধ্য থেকেই।

প্রতি বছর আমাদের দেশের অনেক শিক্ষার্থী দেশের বাহিরে পড়াশোনার জন্য পাড়ি জমাচ্ছে। এরপর তারা সেখানে ভালো কাজের সুযোগ পাওয়ায় দেশের বাহিরেই অবস্থান করে। দেশের বাহিরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আমাদের দেশের ছেলে মেয়েরা অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করছে। এজন্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর নিউক্লিয়ার এনার্জি বিষয়ে উচ্চতর পড়াশুনা করেছেন তাদেরকে নিয়োগ দেয়া হবে। এই বিষয়ে আরো দক্ষ হওয়ার জন্য ৮২৫ জন প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীর একটি দল রাশিয়া যাচ্ছে। পুরো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য তিন হাজার জনবল দরকার হবে। যা দেশের থেকেই নিয়োগ দেয়া হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেন, এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমরা কড়া নজর রাখছি, যাতে কোনো জামায়াত-শিবির বা যুদ্ধাপরাধীর সন্তান ঢুকে না পড়ে। আর এখানে উচ্চপদস্থ মন্ত্রী বা সরকারি কর্মকর্তাদের সন্তান ও আত্মীয়দের লবিংকেও আমরা পাত্তা দেব না। সম্প্রতি আইইএর একটি প্রতিনিদিল দল রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প দেখতে এসে নিরাপত্তা, কারিগরি দিক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার, যার ৯০ শতাংশ রাশিয়া ঋণ হিসেবে দেবে। রুশ প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়ের নকশায় পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্বলিত ‘সর্বাধুনিক তৃতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তি’ দিয়ে রূপপুরে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।

দেশে যা একসময় শুধুই স্বপ্ন ছিল তা আজ বাস্তবায়ন করছে বর্তমান সরকার। দেশের জনগণের জীবনমানের সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নত হচ্ছে গোটা দেশ এবং দেশের এই অবকাঠামোগত উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট সকলে।