সতর্কবার্তা আ’লীগের জন্য: বিএনপি’র চাইতেও একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী লুকিয়ে আছে!

0
22
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

গত ২৭ আগস্ট দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত শ্রদ্ধেয় লেখক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী এর লেখা ‘আওয়ামী লীগের জন্য একটি কঠিন সতর্কবার্তা-২’ শিরোনামের প্রকাশিত লেখাটি যারা পড়েছেন, তারা প্রত্যেকেই বোধকরি আমার মতো শিউরে উঠেছেন। রাজনৈতিক লেখক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন বর্তমান আওয়ামী লীগ এর পরিস্থিতি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বর্তমানে আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য দিক হয়ে উঠেছে। পরিবারের সাথে যোগাযোগ, যে কোনো সামাজিক কাজ কিংবা জরুরি প্রয়োজনে রক্ত সংগ্রহের মতো কাজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমই আমাদের ভরসা। কিন্তু এটি যখন হয়ে উঠে গুজব ছড়ানোর মূল হাতিয়ার- তখন তা ভাববার বিষয়ই বটে। আর এই গুজব যে কতটা কার্যকর- তা সাম্প্রতিক নিরাপদ সড়ক এবং শহিদুল আলমের গ্রেফতার পরবর্তী গুজবগুলোই প্রমাণ করে। এই গুজবগুলো যে পোস্ট হলো, আমাদের সামনে আসলো, বিশ্বমঞ্চে সরকারকে ছোট করা হলো- এর পেছনে কে বা কারা কাজ করছে? তাদের অর্থের উৎস কি?

ফিরে তাকালে আমরা দেখতে পাই, হেফাজতি অভ্যুত্থানের সময়ও এই প্রোপাগান্ডা সেল গুজব ছড়াতে পেরেছে, ঢাকায় কয়েক হাজার হেফাজতি ও মাদ্রাসা ছাত্রকে হত্যা করে লাশ ভারতে পাচার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সময় সরকার আন্দোলনকারীদের প্রতি সবচেয়ে বেশি ধৈর্য ও সহানুভূতির পরিচয় দেয়া স্বত্বেও দেশের বাইরে শক্তিশালী প্রচার ব্যবস্থার দ্বারা বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গণহত্যা চালানো হয়েছে। বিদেশি প্রভাবশালী পত্র-পত্রিকায় তা বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফলাও করে প্রচার চলছে। অভিনয়শিল্পী নওশাবাকে দিয়েও বলানো হয়েছে, ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্রী ধর্ষণ, চোখ উপড়ে ফেলার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটেছে।

অবশ্য দু’দিন পরই জানা যায় এই জঘন্য প্রচারণা মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। কিন্তু ততদিনে বাংলাদেশের এবং বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তির যতটা ক্ষতি হওয়া দরকার তা হয়ে গেছে। বিশ্বের ২৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি, তাদের মধ্যে ১১ জনই নোবেলজয়ী ব্যক্তিত্ব, তারা বাংলাদেশে শহিদুল আলম নামের এক আলোকচিত্র শিল্পীকে গ্রেফতার, তার ওপর পুলিশের শারীরিক অত্যাচার-নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু এই ২৮ জন গুণী ব্যাক্তির সাথে শহিদুল আলমের সম্পর্কে কি? কেনই বা বহুল সমালোচিত শহিদুল আলমের জন্যে তাদের এই মায়াকান্না?

জানা যায়, উক্ত ১১ নোবেল বিজয়ীর মধ্যে বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামও রয়েছে। হঠাৎ কী করে সামান্য একজন ফটোগ্রাফার শহিদুল আলমকে চিনে ফেললেন এই ২৮ জন ব্যক্তি এবং তার মুক্তির দাবিতে রাতারাতি বিবৃতিতে সই দিয়ে ফেললেন, তা এক রহস্যের কথা। পেছন থেকে তাদের ব্রিফ করলেন কে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজলে একটি সমালোচিত নামই আসে সামনে- ড. মুহাম্মদ ইউনূস!

শহিদুল আলম নিরাপদ সড়কের দাবির আন্দোলনের সময় মিথ্যা খবর ছড়িয়েছেন। তা শুধু সরকার বিরোধী প্রচারণা নয়, রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণাও বটে! বক্তব্য রেখেছেন আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ পাচ্ছে- তিনি বহুদিন ধরে একই কাজে লিপ্ত। এই অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হল- প্রায় দেড় যুগ ধরে তিনি কোনো অনুমোদন ছাড়াই পাঠশালা নামে প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক, ডিপ্লোমার শর্ট কোর্স-লং কোর্স সার্টিফিকেট দিয়ে কোটি কোটি টাকা নিচ্ছেন। শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। তিনি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক প্রমাণ করার জন্য নকল ছবি তৈরি করেছেন। বন্ধু ডেভিড বার্গম্যানের (ড. কামাল হোসেনের জামাতা) সহায়তায় একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ করেছেন। এজন্য তিনি গ্রেফতারও হয়েছিলেন সেসময়।

গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকে তিনি নাস্তিকদের আন্দোলন বলে প্রচারণার কাজে যুক্ত ছিলেন। চীনের সঙ্গে সরকারের বিবাদ বাধানোর জন্য চীন বিরোধী চিত্র ও পোস্টার প্রদর্শনী করেছেন। মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতি অভ্যুত্থানের সময় সাড়ে তিন হাজার আলেম ও মাদ্রাসা ছাত্র হত্যার মিথ্যা খবর রটানোর কাজেও তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাই বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক নন। বিএনপির চাইতেও ভয়াবহ শত্রুপক্ষ যে আশেপাশেই ঘুরাফেরা করছে, তা অনেক আওয়ামী লীগ নেতাই টের পাননা। এই শত্রুপক্ষ হল একটি তথাকথিত সুশীল সমাজ, যার অন্যতম নেতা হলেন ড. কামাল হোসেন, ড. ইউনূস প্রমুখ। আন্দোলন দ্বারা সরকারকে কুপোকাৎ করা যাবে না জেনে তারা প্রচারণা দ্বারা শক্তিশালী বিশ্বজনমত গঠন করে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে চান। নির্বাচনের এই পূর্ব সময়ে আওয়ামী লীগ তথা বর্তমান সরকারের উচিত এই মুখোশধারী শত্রুদের বিরুদ্ধে সতর্ক হওয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here