জিকে সেচ প্রকল্পের দুটির একটিমাত্র পাম্প দিয়েই চলছে পানি উত্তোলন কার্যক্রম

0
34
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

দেলোয়ার কবীর, ঝিনাইদহ : বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের দুটি পানি উত্তোলনকারি পাম্পের একটি সপ্তাহ দুয়েক আগে নষ্ট হওয়ায় একটিমাত্র পাম্প দিয়েই চলছে পানি উত্তোলন কার্যক্রম। এতে প্রতি সেকেন্ডে ২৬শর স্থলে ১৩শ কিউসেক পানি তোলা হচ্ছে সেচ কার্যক্রম চালু রাখতে। আর এতে সেচ প্রকল্পের ৯৫ হাজার হেক্টর জমির কোন কোন এলাকায় চলতি রোপা আমন মৌসুমে তিনবারের স্থলে একবার পানি সরবরাহ দেয়া হয়েছে, আবার কোন কোন এলাকায় সেচের পানি মোটেও পাননি কৃষকরা। তাছাড়া, সেচের জন্য খনন করা খঅলগুলো কচুরিপানা আর আগাছায় পরিপূর্ণ হৗয়ায় সেচের পানি ঠিকমত পোঁছাতে পারছেনা মাঠ পর্যন্ত। সেচের তীব্র সংকটের ফলে জিকে প্রকল্পের কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলায় এবার রোপা আমন চাষ মারাতœক ব্যাহত হচ্ছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা ও মাগুরার গাংনালিয়া এলাকার কৃষকদের সাথে আলাপে জানা যায়, দীর্ঘদিন জিকে কতর্দৃপক্ষ তাদের সেচখালগুলোর সংস্কার না করায় তা কচুরিপানা আর আগাছায় পরিপূর্ণ হয়েছে আর কমেছে তার গভীরতা। ফলে ভেড়ামারয় নদী থেকে পাম্পের সাহায্যে উত্তোলিত পানি ওইসব খালের মাধ্যমে মাঠে সরবরাহ দেয়া কঠিন হয়ে উঠেছ্ ে। প্রধানত কুষ্টিয়া মেইন ক্যানেল (কেএমসি) ও আলমডাঙ্গা মেইন ক্যানেল (এএসসি)-র মাধ্যমে সেচখালে পানি সরবরাহ দেয়া হয়ে থাকে।
কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কৃষকরা জিকে সেচ প্রকল্পের পানি ঠিকমত পাননা। বছরের তিনিটি ধানচাষ মৌসুমে দুই থেকে তিনবার পানি সরবরাহ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা কোন কোন সময় একবারের বেশি পানি দিতে ব্যর্থ হয়। আবার কো কোন এলকায় পানি মোটেও সরবরাহ হচ্ছেনা, এমন অভিযোগ কৃষকদের।
কেএমসির আওতাধীন শৈলকুপা উপজেলার এস নাইন-কে সেচখাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আজমল হোসেন মুকুল মোল্লা জানালেন, তাদের সেচখালটি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা আর অবহেলায় পরিস্কার না করায় চলতি রোপা মৌসুমে তার এলাকার তিন হাজার হেক্টর জমি সেচের অভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে কয়েক কিলোমিটার এলাকার আগাছা পরিস্কার করার নামে কিছু কাজ করা হলেও শেষতক সেচের পানি পৌছেনি তার এলাকায়। ফসলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে কিছু স্বচ্ছরল কৃষক স্যালোমেসিন বা বিকল্পভাবে রোপা আমন ক্ষেতে পানি সরবরাহ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তারা অর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বের বলে তিনি জানান। তিনি জানান, রোপা আমন মৌসুমের শুরুতে কুষ্টিয়া একটি ব্রিজ েেমরামতের কথা বলে কর্র্তপক্ষ তার এলাকায় সেচের পানি সরবরাহ বন্ধ রাখে। এবার তার এলাকার কৃষকদের রোপা আমনচাষের ক্ষতি গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের কর্মকর্তাদেরকেই বহন করতে হবে বলে জানিয়ে দের ওই কৃষক প্রতিনিধি।
গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রইস উদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, নদী থেকে দুটি শক্তিশালী পাম্পের সাহায্যে প্রতি সেকেন্ডে ২৬শ কিউসেক পারি তুলে তা প্রকল্প এলাকায় সেচেখালে সরবরাহ দেয়া হতো। এর একটি পাম্প সপ্তাহ দুয়েক আগে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় একটিমাত্র পাম্প দিয়ে পানি ্ওত্তোলন করে প্রতি সেকেন্ড ১৩ কিউসেক পানি সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। ফলে ভরা রোপা আমন মৌসুমেও তারা পর্যাপ্ত সেচের পানি নিশ্চিত করতে পারছেননা। তবে নষ্ট হয়ে যাওয়া পাম্পটি অল্পদিনেই মেরামত করে আবার মাঠে পানি পাঠানো সম্ভব হবে।
গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের চিফ এক্সটেনসন অফিসার আয়ূব আলী জানালেন, তারা সেচ প্রকল্পের মোট ৯৫ হাজার হেক্টর জমির ৫৩ হাজার হেক্টরে চলতি রোপা আমন মৌসুমে সেচের পানি সরবরাহের জন্য কৃষকদের প্রতিশ্রুতি ও নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। এপর্যন্ত তারা ৫১ ভাগ জমিতে সেচের পানি সরবরাহ করতে সমর্থ হয়েছেন, বাদবাকি জমিতে যত দ্রুত সম্ভব সেচের পানি সরবরাহের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, প্রকৌশল বিভাগ থেকে পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলেই কেবলমাত্র তিনি সম্প্রসারণ কর্মীদের মাধ্যমে তা মাঠে সরবরাহ দিতে পারেন।
অপরদিকে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প এলাকার কৃষকদের বক্তব্য তিনবারের স্থলে সর্বোচ্চ একবার কোনকোন এলাকায় পানি সরবরাহ করে কর্তৃপক্ষ কৃষকদের নিয়ে “খেলা-খেলায়” মেতেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here