মাসব্যাপি ‘বিশ্ব শিল্পের মিলনমেলা’ ঢাকায় শুরু শনিবার

45

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক: ১ সেপ্টেম্বর শনিবার থেকে ঢাকায় বসছে ‘বিশ্ব শিল্পের মিলনমেলা’। ৬৮ দেশের ৫’শতাধিক শিল্পীর ৫৮৩টি শিল্পকর্ম নিয়ে শুরু হচ্ছে শিল্পকর্মবিষয়ক আন্তর্জাতিক আসর দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী। আগামিকাল শনিবার ( ১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় মাসব্যাপি এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রদর্শনীর আয়োজন করছে শিল্পকলা একাডেমি। মাসব্যাপি এ প্রদর্শনীকে একাডেমি ‘বিশ্ব শিল্পের মিলনমেলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

জানা যায়, এশিয়ার বৃহত্তম এ চারুকলা প্রদর্শনীতে অংশ নিতে যাচ্ছেন ১৯৯ জন বাংলাদেশি শিল্পী। তাঁদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন ১০৭ জন। এ ছাড়া পারফরম্যান্স আর্টে অংশ নেবেন ১৬ জন এবং বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নিচ্ছেন ৬৩ জন শিল্পী। ২৬৬ জন বিদেশি শিল্পী অংশ নিচ্ছেন একাডেমির এই ১৮তম আসরে। যাঁদের মধ্যে ২২৩ জন শিল্পী প্রতিযোগিতায় শিল্পকর্ম জমা দিয়েছেন, ২৯ জন বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নিচ্ছেন এবং ১৪ জন পারফরম্যান্স আর্টে অংশ নেবেন।

বৃহস্পতিবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে আয়োজনের নানা তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বক্তব্য দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও সংস্কৃতিসচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ। প্রদর্শনীর নানা তথ্য তুলে ধরেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন একাডেমির সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী ও চারুকলা বিভাগের পরিচালক আশরাফুল আলম পপলু।

আয়োজন প্রসঙ্গে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে, উন্নয়নশীল দেশের এই ধারণা সর্বক্ষেত্রে বিস্তৃত করা উচিত। একে আমরা শুধু চিত্র প্রদর্শনী মনে করছি না, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাইরের শিল্পীদের সঙ্গে এটি একটি সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন। একই সঙ্গে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে বহির্বিশ্বের কাছে আমাদের দেশের সক্ষমতা প্রকাশিত হবে এ শিল্পায়োজনের মাধ্যমে। দূর হবে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভিন্ন দেশের নেতিবাচক মনোভাব।

লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ‘বরাবরের মতো এবারও থাকছে পুরস্কার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীদের নাম ঘোষণা করবেন বিচারকমণ্ডলীর প্রধান শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ। মোট ৯টি পুরস্কার প্রদান করা হবে। এর মধ্যে থাকবে পাঁচ লাখ টাকা মূল্যমানের তিনটি গ্র্যান্ড প্রাইজ এবং তিন লাখ টাকা মূল্যমানের ছয়টি সম্মানসূচক পুরস্কার।’ একাডেমির মহাপরিচালক আরো জানান, এবারের আয়োজনে বিশেষ সংযোজন হিসেবে রয়েছে কারুপণ্য মেলা, ফুড কোর্ট, আর্ট ক্যাফে, শিশু কর্নার, আর্ট ক্যাম্প, পারফরম্যান্স আর্ট ওয়ার্কশপ এবং ভাস্কর্য উদ্যানে বিশেষ ভাস্কর্য প্রদর্শনী। শিশু কর্নারে প্রতিদিন ছবি আঁকবে শিশুরা। এতে অংশ নেবে ৬৪ জেলার খুদে শিল্পীরা। সেই সঙ্গে প্রথম সাত দিন চিত্রশালা প্লাজায় থাকবে মাহবুবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে পারফরম্যান্স আর্ট প্রেজেন্টেশন। এতে দেশের ১৬ শিল্পীর সঙ্গে পরিবেশনায় অংশ নেবেন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, স্পেনসহ দশ দেশের ১৪ শিল্পী। অনুষ্ঠিত হবে পারফরম্যান্স আর্টনির্ভর কর্মশালা। এ ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে দুটি সেমিনার। চিত্রশালা মিলনায়তনে ২ সেপ্টেম্বর থাকছে সমসাময়িক চিত্রকর্মের ভাষাবিষয়ক সেমিনার ‘আর্ট অ্যান্ড কনটেম্পরারি ন্যারেটিভস’। ৩ সেপ্টেম্বর রয়েছে চিত্রকলার শিক্ষা ও প্রসার নিয়ে ‘আর্ট পেডাগোগি অ্যান্ড প্রমোশন’ শীর্ষক সেমিনার।

প্রদর্শনীতে মোট ৩৬৮টি পেইন্টিং, প্রিন্ট ও ফটোগ্রাফি, ৩৩টি ভাস্কর্য ও ৫২টি ইলাস্ট্রেশন আর্ট থাকছে। আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে অংশ নেবেন হাশেম খান, রফিকুন নবী, সমরজিৎ রায় চৌধুরী, আফজাল হোসেন, শামসুদ্দোহা প্রমুখ। দেখা যাবে দেশের ১৩ জন পৃথিকৃৎ শিল্পীর কাজও। শিল্পীদের মধ্যে আছেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, এস এম সুলতান, পটুয়া কামরুল হাসান, শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদ, আমিনুল ইসলাম, আবদুর রাজ্জাক ও মোহাম্মদ কিবরিয়া। বিশেষ আমন্ত্রণে আসছেন ভারতের চিত্রকর যোগেন চৌধুরী, মানু পারেখ ও মাধবী পারেখ, নেপালের রাগিনী উপাধ্যায় গ্রিলা ও ফ্রান্সের বার্নার্ড ফ্রাঁকোয়েস লিঁও ক্লারিস। সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চিত্রশালার ছয়টি গ্যালারিতে সাজানো থাকবে শিল্পকর্মগুলো। সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে সবার জন্য।

স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও ৬৭টি দেশ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। নামের সঙ্গে এশিয়া যুক্ত থাকলেও এতে ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকা, উত্তর আমেরিকা, আফ্রিকা ও ওশেনিয়া মহাদেশের দেশও অংশ নিচ্ছে।