ফখরুলকে কামাল ও বি. চৌধুরী থেকে দূরে থাকার নির্দেশ খালেদার

37

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন পর কারাগারে দেখা করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলীয় সূত্রে জানাগেছে, তাদের একান্ত সাক্ষাতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি ও ২০-দলীয় জোটের ঐক্য অটুট রাখা এবং বৃহত্তর ঐক্য গড়ার বিষয়ে কথা হয়েছে এবং মির্জা ফখরুলকে ড. কামাল ও বি. চৌধুরী থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন খালেদা।
ড. কামাল ও বি. চৌধুরীর জাতীয় ঐক্যে সাড়া দিয়ে যুক্তফ্রন্টে যুক্ত হওয়ার পক্ষে ছিল ফখরুল। কেননা মির্জা ফখরুল দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ঐক্যের কথা বলে আসছিল তবে জোটের কোন দল তার ডাকে সাড়া দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে যুক্তফ্রন্টে যোগ দিতে সম্মতি প্রকাশ করছিলেন।
বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির এবং অন্যান্য আরও রাজনৈতিক দলের একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়া মনে করছেন, এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম হলে বিএনপির হাতে একক নেতৃত্ব থাকবে না। নেতৃত্ব চলে যাবে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর হাতে। কারণ বেগম জিয়া এখন জেলে আর তারেক রহমান লন্ডনে পলাতক। অবশ্য বিএনপির অন্য একটি সূত্র বলছে, তারেক বরাবরই অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিরোধী। এ কারণেই তিনি তার সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধী।
শনিবার মির্জা ফখরুল খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করলে তখন তাকে ড. কামাল ও বি. চৌধুরী থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিন বেগম জিয়া। চেয়ারপারসন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির নেতৃত্বে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ার নির্দেশ দেন। ঐক্যের পথে যে কোনো বাধা-বিপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশনাও দেন তিনি।
পাশাপাশি আগামী একাদশ নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন খালেদা জিয়া। দলের মহাসচিবকে তিনি বিএনপি, ২০ দলীয় জোট এবং সম্ভাব্য বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য জোটের যোগ্য ও জনপ্রিয় সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের খসড়া তালিকা প্রণয়ন করার পরামর্শ দিয়েছেন।
দলেন সিনিয়র নেতারা মনে করছেন, যেহেতু চেয়ারপারসন কারাগারে ও ভাইস চেয়ারম্যান লন্ডনে পলাতক- এমতাবস্থায় বিএনপি যুক্তফ্রন্টের সাথে ঐক্য করলে বিএনপির নেতৃত্ব চলে যাবে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর হাতে। আর এজন্যেই হয়তো খালেদা জিয়া ফখরুলকে ড. কামাল ও বি. চৌধুরীর কাছ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।