২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা : মুফতি হান্নানের জবানবন্দি

44

নড়াইল কণ্ঠ:বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশুন্য করার উদ্দেশ্যে চালানো হয় ইতিহাসের বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা। ২০০৪ সালের ২১ শে আগস্টের এই গ্রেনেড হামলায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী আইভি রহমানসহ নিহত হন ২৪ জন। এছাড়াও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাসহ আহত হন অন্তত ২০০ জন।
ঘটনার পর দু’টি মামলা হয়৷ কিন্তু তখন মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অভিযোগ ওঠে৷ সাজানো হয় জজ মিয়া নাটক৷ বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মামলার তদন্ত নতুন মোড় নেয়৷ জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে উঠে আসে হাওয়া ভবনের নাম৷ মোট ৫২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়৷ আসামিদের মধ্যে তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের নামও রয়েছে।
হাওয়া ভবনে বসে হামলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় বলে উল্লেখ করেন মুফতি হান্নান। ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার অপারেশনাল কমান্ডার মুফতি হান্নান হাওয়া ভবনে বৈঠক হওয়া থেকে শুরু করে তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মেজর নূর জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য ঐ সাক্ষাতকারে প্রকাশ করেছেন।
মুফতি হান্নান তার জবানবন্দিতে বলেন, ‘হামলার মূল পরিকল্পনাই ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। যার পরিকল্পনায় ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি খুনী নূর চৌধুরী এবং তারেক জিয়া নিজে। চারটি গোপন বৈঠকের মাধ্যমেই ২১ আগষ্ট হামলার পুরো চক্রান্ত করা হয় হাওয়া ভবনে বসেই। ১৪ আগষ্ট হাওয়া ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনটি প্রস্তাবের একটিকে অনুস্মরণ করে চালানো হয় মূল হামলা। ঐ জবানবন্দিতে হান্নান ফাঁস করে দেয় এই হামলায় হাওয়া ভবনের সংশ্লিষ্টতার কথা।
হাওয়া ভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে শেখ হাসিনাকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তার জবানবন্দিমূলক সাক্ষাতকারে মুফতি হান্নান বলেন, হাসিনাকে শেষ করে দিতে হবে। তাকে কোনোদিনই রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না। মুজাহিদ শেখ হাসিনাকে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী এবং বাবর তাঁকে দেশ থেকে চিরতরে বিদায় বা শেষ করে দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন। মেজর নূর তিন ধরনের পরামর্শ দেয়। যার মধ্যে জনসভায় আক্রমন করে তাঁকে শেষ করে দেয়ার পদ্ধতিটিই সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ায় তাঁকে জনসভায় হামলা চালিয়ে হত্যার সিদ্ধান্ত হয়।
মুফতি হান্নান ঐ জবানবন্দিমূলক সাক্ষাতকারে বলেন, ‘হামলার আগের দিন বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, তার ভাই তাজউদ্দীন, হরকাতুল জিহাদ নেতা আবু তাহের জান্দাল ও কাজলের কাছে ১৫টি গ্রেনেড দেন। অর্থ ও জনবল দিয়ে সব ধরনের সাহায্য করার ওয়াদাও তিনি করেছিলেন। সকালে অফিসে ব্রিফিং এর পর একটি কালো ব্যাগে গ্রেনেডগুলো ভরে দুপুর ১২ টায় টার্গেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। হঠাৎ করেই ভ্রাম্যমাণ স্টেজ হওয়ায় তাদের পরিকল্পনায় অনেকটাই বাঁধা পড়ে। অত্যধিক ভিড়ের কারণে হামলাকারীরা টার্গেটের ধারে কাছে পোঁছতে ব্যর্থ হয়। সে সময় জনসভার দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে হামলাকারীরা অবস্থান নেয় এবং জামায়াতের সক্রিয় ১৫ জন সদস্য হামলায় অংশ নেয় বলে হান্নান বলেন।
বিএনপি-জামাত এর তৎকালীন সরকার গ্রেনেড হামলার সকল আলামত নষ্ট করে দিয়েছিল যাতে করে ভবিষ্যতে আর এই গ্রেনেড হামলার কোনও আলামত খুজে পাওয়া না যায়। ষড়যন্ত্রকারীদের লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করা। এজন্য তারা বারবার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে পারলে দেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যাবে।