নড়াইলে শিশুর ওপর নির্যাতনকারিদের শাস্তি দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি

109

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলে ১০ বছরের কন্যাশিশু ওপর অমানবিক নির্যাতনকারিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকরিপি প্রদান করা হয়েছে। মানববন্ধন শেষে রবিবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে ইউএস বাংলা গ্রুপের ডিএমডি মাহাবুব ঢালী’র সার্বিক সহযোগিতায় রোকসানার সুচিকিৎসার জন্য নড়াইল হাসপাতাল হতে এম্বুলেন্সে করে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
রবিবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় হিউম্যান ডিফেন্ডার্স ফোরাম (এইচআরডিএফ) নড়াইল জেলা শাখা ও নড়াইলের সচেতন নাগরিকবৃন্দ আয়োজনে আদালত সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এ মানববন্ধন প্রায় ৩০মিনিট ধরে অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন চলাকালে নির্যাতনকারিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি রেখে বক্তব্য রাখেন, হিউম্যান ডিফেন্ডার্স ফোরাম (এইচআরডিএফ) নড়াইল জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএ মতিন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট পরিতোষ বাগচী, জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট রওশান আরা লিলি, নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আলমগীর সিদ্দিকী, সিনিয়র সাংবাদিক সাথী তালুকদার, নড়াইল জেলা জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান ও সাবেক সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান সালমা রহমান কবিতা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আঞ্জুমান আরা, হিউম্যান ডিফেন্ডার্স ফোরাম (এইচআরডিএফ)এর সাধারণ সম্পাদক কাজী হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

মানববন্ধন শেষে নড়াইলের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, নড়াইলে শিশুর শারিরীক নির্যাতন ও শিশুধর্ষণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রায়সই এঘটনা ঘটে আসছে। নড়াইলে এ যাবতকাল ঘটে যাওয়া নির্যাতনকারিদের তেমন কোন উল্লেখ্যযোগ্য শাস্তি না হওয়ায় অমানবিক নির্যাতন প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে। অতিসম্প্রতি নড়াইলের লোহাগড়ার বাহিরপাড়া গ্রামের ১০ বছর বয়সের কন্যাশিশু রোখসনা ঢাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়।
গত ১৭ আগষ্ট আছাদুল্লাহর ভাইয়ের সংবাদের ভিত্তিতে অজ্ঞান অবস্থায় ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতাল হতে উদ্ধার করা হয়। রোকসানার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন নিয়ে অসুস্থ্য অবস্থায় গত ১৮ আগস্ট হতে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত নড়াইল সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে আসছিলো।
এ ঘটনায় লোহাগড়া থানায় একটি মামলাও হয়েছে। কিন্তু এ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের কাউকে গ্রেফতার হয়নি। তবে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।
উল্লেখ্য, এ বছরে জানুয়ারী মাসে শিশু রোকসানাদের প্রতিবেশি সালেহা বেগম রোখসানাকে ঢাকার ওয়ারীতে একটি শিশুকে দেখাশোনার জন্য ব্যবসায়ী আছাদুল্লাহর বাসায় নেয়া হয়।
রোকসানা লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের বাহিরপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র দীনমজুর রাসেল শেখের মেয়ে। রাসেল শেখের নিজের কোন জায়গা জমি না থাকায় অন্যের জমির ওপর ঘর বেঁেধ পাঁচ সদস্য নিয়ে বসবাস করেন। অন্যের জমি বরগা করে এবং শ্রম বিক্রি করে দুবেলা দু’মুঠো ভাত খেয়ে কোন রকম বেঁচে আছেন।