খুলনা-৪ উপনির্বাচন: মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে সুকর্ণ ও সালাম মুর্শেদী

20

খুলনা-৪ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন সদ্যপ্রয়াত সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার ছেলে এস এম খালেদীন রশিদী সুকর্ণ এবং সাবেক কৃতী ফুটবলার ও ব্যবসায়ী সালাম মুর্শেদী। আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড সূত্র সারাবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার মৃত্যুর পর আসনটি শূন্য হয়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ সেপ্টেম্বর এই আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৭ আগস্ট) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে খুলনা-৪ আসনের উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বিক্রি শুরু হয়। পরদিন শনিবার (১৮ আগস্ট) পর্যন্ত সাত জন প্রার্থী মনোনপত্র কিনে জমা দেন। আজ রোববার (১৯ আগস্ট) মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার শেষ দিন আরও একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র কিনে জমা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এই উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী প্রার্থী আট জন।
তারা হলেন— প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোল্লা জালাল উদ্দিন, সাবেক ফুটবলার ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালাম মুর্শেদী, তেরখাদা উপজেলা চেয়ারম্যান সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু, জেলা ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুজিত অধিকারী, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল, এস এম জাহিদুর রহমান ও এস এম খালেদীন রশিদী সুকর্ণ।
আজ সোমবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে এই উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে মনোনয়ন বোর্ড ও দলের সভাপতি শেষ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে আওয়ামী লীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
এদিকে, খুলনা আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোস্তফা রশিদী সুজাকে হারিয়ে তারা শোকগ্রস্ত। তারা নেতার ছেলে এস এম খালেদীন রশিদী সুকর্ণকেই প্রার্থী হিসেবে পেতে চান। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, সুকর্ণ তরুণ। শিক্ষিত ও মার্জিত হিসেবে মাঠ পর্যায়ে বাবার মতোই গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তার। যুক্তরাষ্ট্রে পড়ালেখা শেষে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কিছুদিন চাকরি করেছেন তিনি। পরে দেশে এসে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যবসাও করেন। এরই মধ্যে বাবার পথ অনুসরণ করে যুক্ত হয়েছেন রাজনীতিতে। নির্বাচিত হয়েছেন খুলনা জেলা পরিষদের সদস্য। স্থানীয়রা মনে করছেন, বাকি প্রার্থীদের তুলনায় সুকর্ণই এগিয়ে রয়েছেন বাবার রেখে যাওয়া এই আসনে।
এদিকে, খুলনা সদর আসনে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য গত কয়েক মাস ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন রূপসার সন্তান সালাম মুর্শেদী। গত ৩ মার্চ খুলনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেওয়া মুর্শেদী জনপ্রিয় ফুটবলার হিসেবে আগে থেকেই সুপরিচিত। পরে ব্যবসায়ী ও পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি হিসেবেও স্থানীয়দের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন তিনি। মার্চের জনসভাতেই খুলনায় সালাম মুর্শেদীকে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মোস্তফা রশিদী সুজার মৃত্যুতে সেই মুর্শেদী উপনির্বাচনে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন।

স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, আট প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দিলেও সুকর্ণ ও মুর্শেদীই এগিয়ে রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৌড়ে।