মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া বাকি সব কোটা বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

29

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া বাকি সব কোটা বাতিল হচ্ছে। শনিবার (১৮ আগস্ট) বিএমএ ভবনে আয়োজিত জাতীয় শোকদিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা জানান। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোটা আন্দোলনকারীদের কথা শুনেছেন। এক পর্যায়ে তিনি বলেছেন, কোটা থাকবে না। যেহেতু সাংবিধানিক ব্যাপার। একটি সিস্টেমের মধ্যে মীমাংসা করতে চান। তাই কোটা বাতিল নিয়ে কমিটি করে দিয়েছেন তিনি। কমিটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন দিয়েছে।
‘প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধার বিষয়টি ছাড়া তারা (কমিটি) কোটা বাতিল করতে রাজি আছেন। আর সেটি-ই হতে যাচ্ছে। একটি দীর্ঘদিনের ব্যবস্থা ছিল সেটি পরিবর্তন হতে যাচ্ছে।’
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত ২ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিবকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে সরকার।’
প্রাথমিকভাবে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও পরবর্তীতে আরো ৯০ কার্যদিবস সময় পায় এ কমিটি।
কোটা বাতিল সংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে ১৩ আগস্ট বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, কোটা বাতিলে সচিব কমিটির প্রতিবেদন চূড়ান্ত।
রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ঢাকা শহরে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালাচ্ছে আওয়ামী লীগের লোকরা। এদের সঙ্গে আমরা অনেকেই আছি। শ্রমিক নেতারা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, সিপিবি করে। এদের কারণে আজ লাইসেন্সবিহীন চালকরা লাগামহীন গাড়ি চালাচ্ছে। জয়বাংলা বলে সব করে যাচ্ছে এই সব তথাকথিত জয়বাংলা। এরা মানুষকে বিষিয়ে তুলেছে।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই হবে এবং এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে জয়ী করবে দেশের মানুষ। উপমহাদেশে জওহরলাল নেহেরুর পর সংসদীয় গণতন্ত্রে একটানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হবেন শেখ হাসিনা।
সভাপতির বক্তব্যে বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন আগামী সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় হাসপাতালে আসা রোগীদের কাছে ভোট চাওয়ার অনুরোধ জানান চিকিৎসকদের। সভায় অন্যদের মধ্যে বিএমএ মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া প্রমুখ বক্তব্য দেন।