ট্রাফিক সপ্তাহে নড়াইলে মামলা ৯’শ, গাড়ি আটক ১২২, জরিমানা আদায় ৩লক্ষ

93

নড়াইল কণ্ঠ : কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের দাবির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পুলিশ সারাদেশে বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহে শেষ হচ্ছে আজ। সারাদেশের ন্যায় নড়াইল জেলায় ট্রাফিক সপ্তাহের ৯ দিনে বিভিন্ন যানবাহন ও চালকের বিরুদ্ধে প্রায় ৯’শটি মামলা, ১শ ২২টি বিভিন্ন ধরণের যানবাহন আটক এবং প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা আর্থিক জরিমান আদায় করা হয়েছে। বাস, ট্রাক, মাইক্রো বাস, প্রাইভেট কার, মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনেরর চালকদের বিরুদ্ধে এসব মামল দেয়া হয়েছে। আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে নড়াইল শহরের ভেতর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করা হবে।
মঙ্গলবার (১৪ আগষ্ট) সকাল ১০টায় ট্রাফিক সপ্তাহ সমাপনীতে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে জেব্রা ক্রসিং এর উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক মো: এমদাদুল হক চৌধুরী ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার আরো জানান, যারা আইন মেনে চলেছেন তাদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো দিয়েছেন। যারা আইন ভঙ্গ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ অভিযানে জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষের সহযোগিতা পেয়েছি। আজ ১৪ আগস্ট দিনব্যাপি অভিযানের মধ্যদিয়ে বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহের শেষ হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে নড়াইল জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মো: মনিরুজ্জামান জানান, সারাদেশের মতো নড়াইল জেলাতেও গত ৫ আগস্ট হতে বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু করা হয় এবং আজ মঙ্গলবার ( ১৪ আগস্ট) এ ট্রাফিক সপ্তাহ শেষ হচ্ছে। এ অভিযানে পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি স্কুল কলেজের স্কাউটদের সাথে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উল্লেখ্য, এ অভিযান মালিবাগ মোড়, নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নড়াইল প্রেসক্লাব, নড়াইল পুরাতন বাসটার্মিাল, ঘোড়াখালী মোড়, নতুন বাসস্ট্যান্ড, লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলা শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট এবং নড়াগাতী থানা, লাহুড়িয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, নলদী পুলিশ ফাঁড়ি, তুলারামপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি, বিছালী পুলিশ ফাঁড়ি, মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়ি, পিরোলী পুলিশ ফাঁড়ি সহ অন্যান্য পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা স্থানীয় সড়কগুলিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে মোটর সাইকেলের রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ইন্সুরেন্স না থাকা এবং হেলমেট ব্যবহার না করা সহ বিভিন্ন অনিয়মের কারনে মামলা দেয়া হয়েছে।
অভিযানকালে স্কাউটের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংগ্রহণ করায় একটি সফল অভিযানে পরিণত হয়েছে। অভিযানের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা মানুষের মাঝে বেড়েছে।
এদিকে অভিযানের কারণে বিআরটিএতে ভীড় পড়েছে। মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রতিদিন বিআরটিএ অফিসে ভিড় করছে চালকরা।
উল্লেখ্য, নসিমন, করিমন, ইউজিবাইক, ইজিভ্যান ভেইকেল এ্যাক্ট অনুসারে এ অভিযানের আওতাভূক্ত ছিল না।