কালিয়ায় সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা

103

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলের কালিয়ার নবগঙ্গা নদীর বালু অবৈধভাবে উত্তোলনের ছবি তোলায় স্থানীয় সাংবাদিক শেখ ফসিয়ার রহমানকে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় ঐ সাংবাদিকের ক্যামেরা কেড়ে নিয়েছে অবৈধ বালু উত্তোলনকারিরা। রবিবার (১২ আগষ্ট) দুপুরের দিকে নড়াইলের কালিয়া পৌর এলাকার বড়কালিয়া এলাকার ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ছবি তুলতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। মাথায় মারাতœক আঘাতপ্রাপ্ত আহত সাংবাদিকে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি দৈনিক খবর’র জেলা প্রতিনিধি ও কালিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর।
আহত সাংবাদিক ফসিয়ার রহমান জানান, নবগঙ্গার তীরবর্তী শুক্তগ্রাম নামক স্থানে গত ১৫ দিনের ভাঙ্গনে কুমার পল্লীসহ প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি,ফসলী জমি ও গাছ পালা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অব্যাহত ভাঙ্গনে বর্তমানে শুক্তগ্রাম আশ্রায়ন প্রকল্পটিও ভাঙ্গন কবলিত হয়ে পড়েছে। নদী গর্ভে বিলিন হওয়ার আশংকায় স্থানীয় প্রশাসন সেখানকার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। কিন্তু গত কয়েকমাস ধরে শুক্তগ্রাম নদী ভাঙ্গনের অদুরেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল নবগঙ্গা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন করছেন। স্থানীয়রা মনে করছেন অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ভাংগন তীব্র হয়েছে। তিনি সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করাসহ ছবি তুলতে ১২ আগষ্ট দুপুর ১২ টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। ঘটনা স্থলের তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে কালিয়া পৌর শহরে ফেরার পথে বড়কালিয়া স্লইস গেটের পাশে পৌছালে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা অবৈধ বালু উত্তোলন কারিদের অন্যমত হাড়িডাঙ্গা গ্রামের তারিক, বালা, মেশকাত ও বড়কালিয়া গ্রামের অনির্বান ঘোষ ওরফে ছনোর নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একদল সশস্ত্র দুবৃত্ত ওই সাংবাদিকের মটর সাইকেল থামিয়ে বালু উত্তোলনের ছবি তোলার কারন জানতে চাওয়াসহ তার ক্যামেরাটি কেড়ে নেয় এবং তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাংবাদিকবৃন্দ ফসিয়ারের উপর হামলাকারি সন্ত্রাসীদের দ্রুত আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কালিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মশিউল হক মিটু জানান, স্থানীয় সাংবাদিরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে বালুখেকোদের এহেন হামলা আমাদের প্রত্যেতকে আহত করেছে। তিনি সাংবাদিক নির্যাতন কারিদের অবিলম্বে গ্রেফতার সহ দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবি করেছেন।
কালিয়া থানার ওসি শেখ শমসের আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কেউ আটক হয়নি। অভিযোগ পেলে মামলা দায়েরের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
কালিয়ার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও এবিএম খালিদ সিদ্দিকী বলেছেন, নবগঙ্গা নদীর বৃহাচলা নামক স্থানে একটি বালু মহল ইজারা দেয়া আছে। কিন্তু শুক্তগ্রাম এলাকায় কোন বালু মহাল ইজারা দেয়া নেই। আর নদী ভাঙ্গনের কাছে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণই অবৈধ ও দন্ডনীয় অপরাধ।