চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে তারেকের চাঁদার চিঠি, লাঞ্ছিত বিএনপি নেতারা

55

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের বড় বড় চামড়া ব্যবসায়ীদের চাঁদা চেয়ে চিঠি পাঠাচ্ছেন লন্ডনে পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা তারেক রহমান। ঈদের পর সরকার পতনের আন্দোলনে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দেশে বিএনপি-জামায়াতের গুণ্ডা-বাহিনীর রসদ সংগ্রহের জন্য এই চাঁদা তোলা হবে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সূত্র বলছে, তারেক রহমানের নামে বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা রাতের আঁধারে রাজধানীর বড় বড় চামড়া ব্যবসায়ীদের বাসায় গিয়ে চাঁদার চিঠি বিলি করে বেড়াচ্ছেন।
লন্ডন বিএনপি সূত্রে জানা যায়, সরকার বিরোধী পর পর কয়েকটি আন্দোলনে বিনিয়োগ করে তারেক রহমানের হাত একেবারে খালি হয়ে গেছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করেও কোন ফায়দা পাননি তিনি। বিদেশি এজেন্ট এবং আইনজীবীদের দিয়ে সরকারকে চাপ দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। অথচ টাকা নেওয়ার সময় তারা বলেছিল, বেগম জিয়াকে মুক্ত করা মুহূর্তের ব্যাপার। তারেক রহমানকে বোকা বানিয়ে কোটি কোটি টাকা বগলদাবা করে হাওয়া হয়ে গেছেন তারা। এছাড়া লন্ডনে বিলাসী জীবন যাপন করতে গেলেও প্রচুর টাকার প্রয়োজন হয়। দুর্নীতি ও অবৈধ লেনদেনের দায়ে তারেক রহমানের লন্ডনের একাধিক ব্যাংকের হিসাবগুলোর লেনদেন সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চরমভাবে অর্থাভাবে ভুগছেন তারেক। তাই ক্ষতি পুষে নিতে এবং ঈদুল আযহাতে আনন্দ-ফুর্তি করে কাটাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। এই চিন্তা থেকেই তারেক রহমান বড় বড় চামড়া ব্যবসায়ীদের চিঠি দিয়ে চাঁদা আদায়ের পরিকল্পনা মাথায় আনেন। চিঠিতে তারেক ঠিকমতো চাঁদা দিলে অনেকগুলি সুবিধা দেওয়ারও অফার দিয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম হল, বিএনপি যদি আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় বসতে পারে তবে চামড়া ব্যবসায়ীদের কর কমিয়ে দেবে, ব্যবসায়ীদের পুনরায় হাজারীবাগ এলাকায় ফ্যাক্টরি বানানোর অনুমতি দেবে, বিদেশে বেশি বেশি চামড়া রফতানির সুযোগ তৈরি করে দেবে।
পল্টন বিএনপির পার্টি অফিস সূত্রে জানা যায়, তারেক রহমানের শুভেচ্ছা সম্বলিত চাঁদার চিঠি নিয়ে ইতোমধ্যেই তিনজন বড় চামড়া ব্যবসায়ীর কাছে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বিএনপির তিনজন সিনিয়র নেতা। চাঁদার চিঠি দেওয়ার সাথে সাথে তিনজন ব্যবসায়ী একত্রিত হয়ে নেতাদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করে বিদায় করে দেন।