সার্কভূক্ত দেশের মধ্যে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা সবচেয়ে কম

32

সম্প্রতি বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থীর বাসচাপায় নিহত হবার ঘটনায় সড়ক দুর্ঘটনা এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে ইতোমধ্যে সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া গত ০৬ আগষ্ট ২০১৮ তারিখে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। তবে বিগত আন্দোলনে যে বিষয়টি বারংবার আলোচিত হয়েছে তা হচ্ছে রাজধানী ঢাকা তথা সমগ্র বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার মাত্রার যে হার-যেখানে যুক্তিযুক্ত বিশ্লেষণের চেয়ে আবেগের প্রাধান্যই বেশি ছিল। তা এ মুহূর্তে বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তার বাস্তব অবস্থার তথ্য নির্ভর বিশ্লেষণ একান্ত প্রয়োজন।
বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার হার আশ্চর্যজনকভাবে বেশ কম। World Health Organisation (WHO) এর Global Status Report on Road Safety 2015 অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির দিক থেকে সার্কভুক্ত দেশগুলোর হার বাংলাদেশ হতে বেশি।
লাখ প্রতি জনসংখ্যায় সমগ্র বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির হার যেখানে ১৭.৪ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশের হার মাত্র ১৩.৬। উক্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার সম্মিলিত গড় ১৫.৯। ব্রাজিলের মতো একটি দ্রুত উন্নয়নশীল দেশের গড়ও ২৩.৪। ভারতের ১৬.৬, পাকিস্তানের ১৪.২, শ্রীলংকার ১৭.৪, নেপালের ১৭.০ এমনকি ভুটানেরও ১৫.১। তাছাড়া এশিয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার ১৫.৩, কুয়েতে ১৮.৭, মালয়েশিয়ায় ২৪.০, সৌদি আরবে ২৭.৪, থাইল্যান্ডে ৩৬.২, ভিয়েতনামে ২৪.৫ এবং কম্বোডিয়ায় ১৭.৪। এটি পরিষ্কার যে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তার অবস্থা বেশ আশাব্যঞ্জক। কেবল তাই নয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (Accident Research Institute –ARI) তথ্যানুযায়ী ২০১৭ সালে এই হার ৭.৫ এ নেমে এসেছে।
বিগত দশ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের ক্রমাগত চেষ্টা ও পরিকল্পনায় দেশের যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে রীতিমত বিপ্লব ঘটে গেছে। প্রতিবন্ধকতাহীন ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকল্পে সরকারের এ সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি সড়কে প্রাণহানির পরিমাণ অনেকাংশে হ্রাস পাবে।