বিএনপি’র নয়া ষড়যন্ত্র সেপ্টেম্বর-অক্টোবর

22

নড়াইল কণ্ঠ: স্বতন্ত্র বিভিন্ন আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলতে মরিয়া বিএনপি একে একে ব্যর্থ হয়ে নতুন ষড়যন্ত্রের ছক কষছে। কোটা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের আন্দোলনকে পুঁজি করে সরকার পতন করাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। আর এ জন্য সিটি নির্বাচনে বিগড়ে যাওয়া সম্পর্ক স্বাভাবিকে আনতে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে জামায়াতকে নতুন করে ছাত্র আন্দোলন শুরুর প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। আর এতে সফল হলেই জোটে জামায়াতের অবস্থান স্পষ্ট করবে দলটি। ষড়যন্ত্র থেকে সতর্ক হওয়ার জন্য এ সংক্রান্ত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানোর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র বলছে, এর অংশ হিসেবে ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রায় ২০ লাখ উচ্চমাধ্যমিক পাশ শিক্ষার্থীকে ক্ষেপিয়ে রাস্তায় নামানোর এক নীলনকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য কোচিং সেন্টারগুলোর সিংহভাগ পরিচালিত হয় শিবির দ্বারা। এসব কোচিং সেন্টার এখন থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। কয়েকটি কোচিং সেন্টারে এরকম বার্তাও দেওয়া হচ্ছে। এমনকি একাধিক কোচিং সেন্টারে যারা ভর্তিচ্ছুক ছাত্র তাদেরকে নিয়ে ফেসবুকে গ্রুপ করা হচ্ছে। গ্রুপে সক্রিয় সদস্যদের অধিকাংশই জামায়াত-শিবিরের অনুসারী। যারা জামায়াত-শিবির বলতে কেবল ধর্মকেই বোঝে। কর্মীদের নীতিগত আদর্শের দোহাই দিয়ে বলা হচ্ছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলেই গ্রুপগুলোতে জানানো হবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা বর্জন করে রাজপথে অবস্থান নেওয়া হবে। কারণ আমরা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। ইসলাম অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না।
সূত্রের খবর হলো, শিবির পরীক্ষার আগের দিন নিজেরাই ভুয়া প্রশ্নপত্র সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত করবে। শিক্ষার্থীরাও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে এই গুজবে পরীক্ষার হলে না গিয়ে, রাস্তায় অবস্থান নেবে। এর সঙ্গে আবার যুক্ত হবে বিএনপি এবং জামায়াত নিয়ন্ত্রিত কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবরে এরকম আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েই ব্যস্ত শিবিরের শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক।
তবে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশকে অস্থিতিশীল করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে যারা তৎপর তাদের দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। যেকোনমূল্যে যেকোন ধরণের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় নেয়া হবে। অনুসন্ধানী দল সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।