মহেশপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে গরমপানিতে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা

0
16
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: যৌতুকের দাবী পূরণ করতে না পারায় স্বামী তার স্ত্রীকে গরম পানিতে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মুখ ও শরীর ঝলসানো অবস্থায় আহত গৃহবধূ রেহেনা খাতুনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও হতদরিদ্র পিতা চিকিৎসার খরচ বহন করতে না পারায় রেহেনা খাতুন পিত্রালয়ে আনা হয়েছে। সেখানেই সে মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৭ জুলাই ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী মহেশপুর উপজেলার কুসুমপুর গ্রামে। এব্যাপারে মহেশপুর থানায় ৬জনকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হলে পুলিশ অভিযুক্ত এক জনকে আটক করেছে (মামলা নম্বর- ৩, তারিখ০২/০৮/২০১৮)।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কোটচাঁদপুর উপজেলার সুয়াদী গ্রামের মিনাজ উদ্দীন বিশ্বাসের মেয়ে রেহেনা খাতুন (৩৫) এর সাথে ১৮ বছর আগে মহেশপুর উপজেলার কুসুমপুর গ্রামের সোনামিয়ার ছেলে মাইক্রোবাস চালক আলম হোসেন (৪০) এর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের দু’টি পূত্র সন্তান রয়েছে। বিয়ের সময় যৌতুকের কোন দাবী দাওয়া না থাকলেও সোনামিয়া কয়েক দফায় প্রায় দেড় লাখ টাকার আসবাবপত্র মেয়েকে কিনে দেন। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই যৌতুকলোভী স্বামী আলম ড্রাইভার যৌতুক চেয়ে স্ত্রী রেহেনার উপর শারিরীক নির্যাতন শুরু করে। মেয়েকে নির্যাতন থেকে রক্ষার জন্য ১৮ বছরে বিভিন্ন সময়ে জামাই আলমের হাতে নগদ এক লাখ পনর হাজার টাকা তুলে দেন মিনাজ উদ্দীন বিশ্বাস । এরপরও স্বামী ও শাশুড়ি কতৃক রেহেনার উপর নির্যাতন থামেনি।
গত ২৭ জুলাই বিকালে সংসারের ঠুনকো বিষয় নিয়ে আলম ড্রাইভার স্ত্রীকে বেদম মারপিঠ করে প্রায় অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে চায়ের জন্য চুলাই থাকা গরম পানি এনে স্ত্রী রেহেনার মুখে ও শরীরে ঢেলে দেয়। এ অবস্থায় প্রতিবেশীরা রেহেনাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। খবর পেয়ে রেহেনার ভাই শফিকুল ইসলাম জীবননগর হাসপাতালে ছুটে যান। পরদিন রেহেনাকে তিনি কোটচাঁদপুর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। এখানে একদিন থাকার পর ডাক্তারের পরামর্শে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
¬¬রেহেনার ভাই শফিকুল ইসলাম জানান, বোনের চিকিৎসার জন্য ব্যস্ত থাকায় গত ২ আগষ্ট বাদী হয়ে তিনি মামলা করেছেন।
অভিযুক্ত আলমের পিতা সোনা মিয়া বলেন, এ ঘটনার দুইদিন আগে ছেলে আলম তাকে (বাবাকে) বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছে । বর্তমানে তিনি মেয়ের বাড়ীতে রয়েছেন। এমন ঘটনা শুনে তিনি রেহেনাকে দেখার জন্য কোটচাঁদপুর হাসপাতালে ছুটে এসেছেন। ছেলের কাছে তিনি খুবই অসহায় বলে জানান।
এ মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা মহেশপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর রবিউল ইসলাম জানান, তারা অভিযোগটি পাওয়ার সাথেসাথে আমলে নিয়ে অভিযুক্ত একজনকে গ্রেফতার করেছেন, বাকীরা পলাতক রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here