ঝিনাইদহে সার্টিফিকেট আদালতে ২১শ মামলা ঝুলছে

30

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের সার্টিফিকেট আদালতগুলোতে ঝুলছে ২১শ মামলা। কৃষকসহ বিভিন্ন ঋণগ্রহীতার কাছে ব্যাংকগুলোর পাওনা রয়েছে ১০ কোটি ৩৪ লাখ ৯১ হাজার ৬৯৩ টাকা।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জেনারেল সার্টিফিকেট শাখা সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত জেলার ৬ উপজেলার সার্টিফিকেট আদালতে মামলার পরিমাণ রয়েছে ২,১৯৩টি। এর মধ্যে জেনারেল সার্টিফিকেট অফিসার আদালতে ৪৫৮টি মামলায় পাওনা রয়েছে ৫ কোটি ৪২ লাখ ৬৮ হাজার ৫২৮ টাকা, সদর সার্টিফিকেট আদালতে ১৮৭টি মামলায় পাওনা রয়েছে ৩৭ লাখ ৩৪ হাজার ৮১০ টাকা, শৈলকুপা সার্টিফিকেট আদালতে ১৯৬টি মামলায় পাওনা রয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৭ টাকা, হরিণাকুন্ডু আদালতে ৫৪টি মামলায় পাওনা রয়েছে ২৯ লাখ ৯১ হাজার ২২২ টাকা, কালীগঞ্জ আদালতে ৩৫৭টি মামলায় ১ কোটি ২৬ লাখ ৪৪ হাজার ৯৩৫ টাকা, কোটচাঁদপুর আদালতে ৭৫টি মামলায় পাওনা রয়েছে ৮৫ লাখ ৬০ হাজার ৬৬ টাকা ও মহেশপুর আদালতে ৮৬৬টি মামলায় পাওনা রয়েছে ১ কোটি ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪৫ টাকা। এসব মামলার মধ্যে অনেক কৃষকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ পরিশোধের মেয়াদ শেষ হলে গ্রহীতাকে টাকা দেয়ার জন্য তাগাদা দিতে থাকে। মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীরা ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেও ঋণ আদায়ের চেষ্টা করে থাকেন। কোনোভাবে কাজ না হলে চূড়ান্ত নোটিশ পাঠানো হয়। সর্বশেষ সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে যেসব কৃষকের নামে মামলা হয়েছে তারা সুদ মওকুফ করে আসল টাকা পরিশোধ করার সুযোগ চেয়েছেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাষ্টসাগরা গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, ৬ বছর আগে তিনি বাংলঅদেশ কৃষি ব্যাংক স্থানীয় থেকে ২৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সে বছর ফসল না হওয়ায় ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারেননি তিনি। এখন ব্যাংকের দেওয়া ৮০ হাজার টাকার মামলা নিয়ে ঘুরছেন। কিন্তু তার সামর্থ নেই টাকা পরিশোধের।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক ও জেলা কৃষি ঋণ কমিটির সভাপতি সরোজ কুমার নাথ জানান, মামলাগুলো নিষ্পত্তি করার জন্য সার্টিফিকেট অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর কৃষকদের দাবি সুদ মওকুফের বিষয়ে সম্মিলিতভাবে আবেদন করলে তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে।