পড়াশুনার মান নেই ঝিনাইদহের যমুনা শিকদার ডিগ্রি কলেজে ব্যবস্থাপনার অভাবে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে থাকতে অনাগ্রহী

0
15
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : পড়াশুনার মান বলে তেমন কিছু নেই ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার যমুনা শিকদার ডিগ্রি কলেজে। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঠিঁক পরিকল্পনা ও নজরদারির অভাব, ইংরেজি, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষকদের দক্ষতার ঘাটতি এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ কতিপয় শিক্ষকের অনিয়মিত কলেজে আসা যাওয়াকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা। ফলে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত এ কলেজের শিক্ষার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষায় ব্যাপক অকৃতকার্য হয়েছেন। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে পরিক্ষার উত্তরপত্র “পূনর্মূল্যায়ন” করতে উদ্যেগী হয়েছেন কলেজ কর্র্তপক্ষ।
এলাকার সচেতন ব্যক্তি ও অভিভাবকরা জানান, ১৯৯৯ সালে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও আবাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালিন চেয়ারম্যান মুক্তার আহমেদ মৃধা স্থানীয় জমিদার বংশোদ্ভ’ত শিকদার পরিবারের দেয়া এক একর জমিসহ ২.০৪ একর জমির ওপর যমুনা শিকদার ডিগ্রি কলেজে প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে কলেজে ২০জন শিক্ষকসহ ৩১জন কর্মরত রয়েছেন। কলেজ সূত্র জানায়, চলতি উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষায় ১৬৮ শিক্ষার্থী অংশ নেন। এদের মধ্যে ৪৩ পরিক্ষার্থী পাস করলেও অকৃতকার্য হন ১২৫। যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ডের এবারের গড়পড়তা পাসের হার ৬০ ভাগ হলেও এ কলেজের শিক্ষার্থীদের শতকরা হিসাবে পাসের হার ২৫.৬০। শৈলকুপা উপজেলায় কলেজপর্যায়ে এ কলেজের ফলাফল সর্বনি¤œ। এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষায় ইংরেজিতে ৮৮জন, তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ বিষয়ে ২৫জন ও বাংলায় ৯জন পরিক্ষার্থী ফেল করেন।
এলাকাবাসি ও অভিভাবকরা জানান, মনোরম পরিবেশে অবস্থিত চারতলা ভবনবিশিষ্ট একটি সুরম্য দালানঘরসহ পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও এ কলেজের ৩০ ভাগের বেশি শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত থাকেননা। যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৫০ ভাগের মত বলে দাবি করছেন। তাদের ভাষ্য, বর্তমাণ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান স্থায়ীভাবে এলাকার বাইরে অবস্থান করায় তারা কলেজটির তদারকি করতে পারছেন না ঠিকমত। কলেজের নিয়মিত সভা ও অন্যান্য কাজও ঢাকা গিয়েই অধ্যক্ষ সম্পন্ন করে আনেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ইংরেজি, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ বিষয়ে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতি, প্রতিষ্ঠান প্রধানের আউটসোর্সিং ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ততা এবং তিনিসহ কতিপয় শিক্ষকের অনিয়মিত কলেজে আসা যাওয়াকেও তারা দায়ী করছেন ।
জানা যায়, এ কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে চারজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও তিন শিক্ষার্থী এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষায় অংশ নিলে একজন ফেল করে বসেন। অন্যান্য বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষায় ভালো ফল করলেও এবারের ফল বিপর্যয়ের একটি বড় কারণ এলাকাবাসির কাছে কলেজটির গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে প্রশের উদ্রেক করেছে। তা হল- ইংরেজি পরিক্ষার দিনে ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা যে কেন্দ্রে পরিক্ষা দিচ্ছিলেন, ষেখানে একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা দীর্ঘক্ষণ উপস্থিত থাকায় ছাত্ররা এদিক-ওদিক না করতে পারায় এমন নাজুক ফলাফল হয়েছে।
এব্যাপারে যমুনা শিকদার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুর রহমানের ব্ক্তব্য হলো- এবারের ফল বিপর্যয়ের বড় কারণ হলো- তার কলেজের পরিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়নকারি কর্র্তপক্ষ সঠিকভাবে মূল্যায়ন না করায় ফল খারাপ হয়েছে। তিনি ওই উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়নের আবেদন করবেন।
অধ্যক্ষ জানান, তার কলেজে ৫০ভাগের মত শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকেন। তবে ইংরেজি, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষকদের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে তিনি জানান, তিনিসহ সকল শিক্ষক নিয়মিতই কলেজে আসা যাওয়া করেন।
কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও আবাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালিন চেয়ারম্যান মুক্তার আহমেদ মৃধা জানান, গ্রামীন এলাকার পিছিয়েপড়া ও অনগ্রসর শ্রেণীর মানুুষের সন্তানদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে তিনিসহ এলাকার বিদ্যানুরাগী ও সাধারন মানুষের প্রচেষ্ঠায় তিনি এ কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। এ প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাস ও জ্ঞানচর্চা অব্যাহত থাকলে এবং ব্যবস্থাপনা কর্র্তপক্ষ ও শিক্ষকমন্ডলী আন্তরিক হলে ফলাফল সর্বনি¤œপর্যায়ে আসতনা।
যমুনা শিকদার ডিগ্রি কলেজের বর্তমান সভাপতি নজরুল ইসলাম দুলালের সাথে মুঠোফোনে আলাপ করলে তিনি জানান, কলেজের সভা ও অন্যান্য কার্যক্রম নিয়মিত হয় এবং অধ্যক্ষসহ সকল শিক্ষক নিয়মিত কলেজে আসেন। আগামী বছর থেকে কলেজটি আবার পরিক্ষাসহ সকলক্ষেত্রে ভালো ফল করবে বলে দাবী করেন বর্তমাণ সভাপতি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here