পাকিস্তান নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর ভরাডুবিতে চিন্তিত জামায়াত

44

নড়াইল কণ্ঠ : বিগত সময়ে পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইসলামী দলগুলোর উল্লেখযোগ্য প্রভাব থাকলেও সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হয়েছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছে পাকিস্তানের মদদপুষ্ট ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামী। পাকিস্তানের নীতি ও আদর্শে চলা দলটি বিএনপিকে ছেড়ে জাতীয় নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে নিজেদের অবস্থান নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে। সূত্র বলছে, প্রথমবারে মতো জোটের বাইরে নির্বাচন করার ভাবনায় দলের অবস্থান যা ছিলো, পাকিস্তানের নির্বাচনে সেদেশের ইসলামী দলগুলোর ভরাডুবিতে সেই ভাবনায় সুক্ষ্ণ সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটুট অবস্থানের কথাও জানিয়েছেন দলের নেতারা।
প্রসঙ্গত, সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। খুলনা, গাজীপুরের পর বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট- তিন সিটি নির্বাচনেই বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন না দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেয় জামায়াতে ইসলামী। পরে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী সরিয়ে নেয় জামায়াতে ইসলামী। এদিকে রাজশাহী সিটিতে জামায়াতের প্রার্থী সরিয়ে নিলেও বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করার ঘোষণা দেয় দলটি। অন্যদিকে শত অনুরোধ সত্ত্বেও সিলেটের প্রার্থিতা বর্জন করেনি জামায়াত। এমন বাস্তবতায় জোট থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও জোটের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াত। বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তান নির্বাচনের ফলাফলে জামায়াতে ইসলামীর কিছুটা বিব্রত হওয়া স্বাভাবিক।
পাকিস্তানের নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর বিপর্যয় প্রসঙ্গে জামায়াতের একজন আমীর বলেছেন, আমরা মোটেই শঙ্কিত নয়। বিএনপির সঙ্গে জোট করে এযাবৎকালে তাদের কেবল দিয়েই গেছি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম আশা দিয়ে প্রত্যেকবারই নিরাশ করেছে তারা। ফলে তাদের ছাড়া নির্বাচনের ভাবনা আমাদের অস্তিত্বের লড়াই বলেই মনে করছি। পাকিস্তানের ইসলামী দলগুলোর ভরাডুবির সাথে আমাদের জনপ্রিয়তার তুলনা করছি না। তবে আমাদের বেলায় এরকম হবে না বলেই আশা করছি।
উল্লেখ্য, ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হলো পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে হাফিজ সাঈদের নতুন দল, মওলানা ফজলুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জোট, জামায়াতে ইসলাম, জমিয়তুল উলেমা পাকিস্তান, মিল্লি আওয়ামী লিগ কেউই নির্বাচনে খুব ভালো ফল করতে পারেনি। এবারের নির্বাচনে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সবগুলো ধর্মীয় দলগুলো ১ হাজার ৪০০ জন প্রার্থী দিলেও মাত্র ৩৯ জন জয়ী হয়েছেন।